লকডাউনের জেরে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও বিপর্যস্থ হয়ে গেছে

6
লকডাউনের জেরে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও বিপর্যস্থ হয়ে গেছে

করোনা আবহে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও বিপর্যস্থ হয়ে গেছে। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে টানা ৬৮ দিন চলেছে লকডাউন। লকডাউনের জেরে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রগুলিও অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে। স্বভাবতই দেশের কোটি কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছেন। বিগত ছয় মাস ধরে দেশের বেকারত্ব আরও বেড়েছে। করোনার ফলে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দেশের একেবারে গরিব শ্রেণীর মানুষ। তার সাথেই রয়েছে পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা।

পরিযায়ী শ্রমিকেরা লকডাউনের সময় যেভাবে নিজ রাজ্যে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন, আনলক পর্বে ঠিক সেভাবেই পুনরায় নিজেদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কারণ কর্মসংস্থানের অভাব। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মূল্যবৃদ্ধি। নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের মূল্য এত বেড়ে গেছে যে, মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে সাধারণ দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের জীবনে কার্যত বিপর্যয় নেমে এসেছে।

জুলাই মাস থেকে যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আনলক পর্ব শুরু হয় তখন থেকেই শুরু হয়েছে মূল্যবৃদ্ধি। এরপর আগস্ট মাসে জুলাইয়ের তুলনায় মূল্যবৃদ্ধি কিছুটা কমে। তবে আগস্টে খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধির হার ছিল ৯.০৫ শতাংশ। সাধারণ মানুষের কাছে যা অনেকটাই বেশি। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আনলক পর্বে এখনো অব্দি খাদ্যের যোগান এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ফলে দাম বাড়ছে। আবার যোগান স্বাভাবিক হলেও যে দাম কমবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে কৃষিপণ্যের ফলনেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই আপাতত খাদ্যদ্রব্যের দাম কমছে না বলেই মনে করছেন তারা। এই আশঙ্কাকেই সমর্থন করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। আর বি আই এর দাবি অনুযায়ী, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। যার ফলে বিগত কয়েক বছর ধরে দেশে ভালো ফলন হচ্ছে না। সাধারণ আলু, পেঁয়াজ, টমেটোর দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। একদিকে বেকারত্ব বাড়ছে, অপরদিকে খাদ্যমূল্য আকাশ ছুঁয়েছে। ফলে, সাধারণ মানুষের দুর্দশা বাড়ছে বৈ কমছে না।