নন্দীগ্রামে এবার প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী, স্বাগতম জানালেন শুভেন্দু

4
নন্দীগ্রামে এবার প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী, স্বাগতম জানালেন শুভেন্দু

আসন্ন একুশের বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে রাজ্যের রাজনীতি এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একুশে বাংলার মসনদ দখলে লড়াইয়ে সম্মুখ সমরে তৃণমূল এবং বিজেপি। উভয় পক্ষ একে অন্যকে এক চুল জায়গাও ছেড়ে দিতে নারাজ। তার উপর আবার রয়েছে দলবদলের রাজনীতি। এই দলবদলের রাজনীতিতে বিজেপির পাল্লা ভারী হচ্ছে। অপরপক্ষে তৃণমূলের শক্তি হ্রাস ঘটছে। রাজ্য শাসক দলকে এখন কার্যত বিজেপির পাশাপাশি প্রাক্তন তৃণমূলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও লড়তে হচ্ছে।

এই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল নন্দীগ্রামের তেখালিতে জনসভার নেতৃত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই নন্দীগ্রাম থেকেই তার উত্থান! নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা ঘনিষ্ঠ শুভেন্দু অধিকারী এতকাল সেই নন্দীগ্রামে রাজত্ব করেছেন। তবে রাজনীতি বড় বালাই! রাজনৈতিক প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার তার একদা ঘনিষ্ঠ শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেই প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াচ্ছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর শুভেন্দু অধিকারীও অবশ্য তার রাজনৈতিক স্পিরিট ধরে রেখেছেন। নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে “স্বাগত” জানিয়েছেন তিনি। এদিন একটি টুইট বার্তায় মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছেন, ” স্বাগতম দিদি! ২১ বছর একসঙ্গে কাজ করেছি। এবার নন্দীগ্রামে সামনাসামনি দেখা হচ্ছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই বক্তব্যে একুশের লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী প্রতি প্রচ্ছন্ন সৌজন্যবোধ লুকিয়ে আছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এদিন তেখালিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নন্দীগ্রামের আন্দোলনে কার অবদান ছিল, সেই নিয়ে কোন জ্ঞান শুনবো না। যারা লোভী, ভোগী, তারাই দল ত্যাগ করে গেছে। নন্দীগ্রামে এবার আমিই প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াচ্ছি।” এর পরিপ্রেক্ষিতে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রীকে যদি হাফ লাখ ভোটে হারাতে না পারি, তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো।”