কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ২ একর কিন্তু রাজ্যের প্রকল্পে এক কাঠা জমি থাকলেও অর্থ পরিষেবা মেলেঃ মমতা

9
কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ২ একর কিন্তু রাজ্যের প্রকল্পে এক কাঠা জমি থাকলেও অর্থ পরিষেবা মেলেঃ মমতা

বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোদি-মমতার মধ্যে জোর সঙ্ঘাত বেঁধেছে। একে অপরকে কটাক্ষ করার সময় অবশ্য কেউ কারোর নাম নিচ্ছেন না। তবে হাবেভাবে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছেন, বক্তব্যের নিশানায় কে রয়েছেন। যেমন গত সোমবার বারানসীতে আয়োজিত একটি সভায় অংশগ্রহণ করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাকে খোঁচা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার তার পাল্টা জবাব দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

সোমবার একটি নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের একটি রাজ্য “প্রধানমন্ত্রী কিসান” তথা “পিএম-কিসান” নামক কেন্দ্রীয় প্রকল্পটিকে চালু হতেই দিল না। তাদের ভয়, কৃষকদের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় প্রকল্পটি সে রাজ্যে চালু হয়ে গেলে কৃষকেরা মোদি সরকারের জয়জয়কার করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বললেন, রাজ্যে এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প আগে থেকেই চালু করা আছে। নতুন করে একই প্রকল্প চালু করার দরকার নেই।

উল্লেখ্য, “প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি'” প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বছরে তিনটি কিস্তিতে মোট ছয় হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। প্রায় দুই বছর ধরে অন্যান্য রাজ্যের কৃষকেরা এই সুবিধা পাচ্ছেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ রাজ্যে সেই কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হতে দেয়নি। এ রাজ্য থেকে কৃষকদের নামের তালিকা কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়নি। ফলস্বরূপ, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৭০ লক্ষ কৃষক কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, এমনটাই দাবি করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর জবাব, কৃষকদের জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য। বছরে পাঁচ হাজার টাকা করে তাদের দেওয়া হয়। খাজনা মকুব করা হয়েছে। বাংলায় কৃষকদের জন্য রয়েছে “ধান দিন চেক নিন” প্রকল্প। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় যাদের ২ একর জমি রয়েছে, তারাই সুবিধা পান। কিন্তু রাজ্যের নিয়ম অনুসারে এক কাঠা জমি থাকলেও অর্থ পরিষেবা মেলে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য রয়েছে “কৃষক বন্ধু প্রকল্প” যেখানে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে কৃষকের মৃত্যু হলে তার পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা দেয় রাজ্য সরকার।