“মায়ের রান্নাঘর” এর পাল্টা হিসেবে “মাছে ভাতে বাঙালি” কর্মসূচি চালু করল বিজেপি

10

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের মসনদ দখলের লড়াইয়ে সম্মুখ সমরে বিজেপি এবং তৃণমূল। উভয় শিবিরই কার্যত একে অপরকে টেক্কা দিয়ে একে অন্যকে ছাপিয়ে সাধারণ মানুষের মনের দরজায় পৌঁছে যেতে চাইছে। সেই ব্যবস্থাই কোনো কার্পণ্য রাখতে চান না রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচি “মায়ের রান্নাঘর” সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ ভালোভাবেই তৃণমূলের হয়ে প্রচার চালাচ্ছে।

এক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলো না বিজেপিও। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় বিজেপির উদ্যোগে চালু হলো “মাছে ভাতে বাঙালি” কর্মসূচি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “মায়ের রান্নাঘর” এর পাল্টা হিসেবেই বিজেপির নেতা কর্মীদের উদ্যোগে “মাছে ভাতে বাঙালি” কর্মসূচি চালু করা হলো। এই কর্মসূচী উদ্বোধনের দিন সাধারণ মানুষের সঙ্গেই পাত পেড়ে বসে খেলেন রাজনৈতিক শিবিরের মাথারা।

উল্লেখ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “মায়ের রান্নাঘর” এ ৫ টাকার বিনিময়ে মিলছে ডিম-ভাত। ভাত, ডাল, ডিম এবং সবজি খেতে গেলে সাধারণ মানুষকে ৫ টাকা খরচ করতে হবে। প্লেট পিছু বাকি ১৫ টাকা হিসেবে ভর্তুকি দেবে রাজ্য সরকার। কলকাতার ১৬ টি বরো এলাকায় ১৪৪ টি ওয়ার্ডে এভাবেই সাধারণ মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভোটের আগে পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। আগামী দিনে এই ব্যবস্থা সারা রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে বিজেপি শিবিরের আয়োজনে সাধারণ মানুষকে কোনো খরচই করতে হচ্ছে না। ভোট বড় বালাই। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টেক্কা দিতে সাধারণ মানুষের সেই পাঁচ টাকাও মুকুব করেছে বঙ্গ বিজেপি শিবির। এই কর্মসূচীর উদ্বোধনের দিন এগরার পানিপারুল এলাকায় আলুভাজা, ডাল, মাছের ঝোল, চাটনি সহযোগে বিনামূল্যে মধ্যাহ্নভোজন পেলেন সর্বসাধারণ। “বাঙালি সংস্কৃতি”র ঐতিহ্য ধরে রাখতেই মাছ-ভাত প্রেমী বাঙালির উদ্দেশ্যে বিজেপির তরফ থেকে চালু হয়েছে এই কর্মসূচি, এমনটাই জানালেন এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত বিজেপি নেতারা।