রায়গঞ্জের করণদিঘি কেন্দ্রের এই নির্দল প্রার্থীর সম্পত্তির পরিমাণ ৬৫০ কোটি টাকারও বেশি

13
রায়গঞ্জের করণদিঘি কেন্দ্রের এই নির্দল প্রার্থীর সম্পত্তির পরিমাণ ৬৫০ কোটি টাকারও বেশি

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জের করণদিঘির কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন বিনয়কুমার দাস। সম্প্রতি ভোটের অন্যান্য প্রার্থীদের মতো তাকেও নিজের সম্পত্তির হলফনামা পেশ করতে হয়েছে। উক্ত হলফনামা থেকে দেখা গেল এই নির্দল প্রার্থীর সম্পত্তির পরিমাণ বর্তমান বাজারমূল্যের প্রায় ৬৫০ কোটি টাকারও বেশি।

এই বিপুল পরিমান সম্পত্তির অধিকারী হয়েও তিনি একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। দামি গাড়ি কিংবা বাড়ি নয়, নামিদামি ব্র্যান্ডের পোশাক-আশাকও নয়। করণদীঘির এই বিত্তবান নির্দল প্রার্থীর একমাত্র শখ হলো ভোটের লড়াই লড়া। তিনি জানাচ্ছেন, ভোটে তিনি জিতবেন কিংবা হারবেন তা নিয়ে তিনি আদেও চিন্তিত নন। ভোটের লড়াইয়ে দাঁড়ানোই তার একমাত্র লক্ষ্য।

জন্মসূত্রেই ৬৫০ কোটি ৮২ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন তিনি। মালদহের বুকে ১০০ একর জমির উপর একটি আম বাগান রয়েছে তার। শুধু তাই নয়, রায়গঞ্জ, মালদহ, জলপাইগুড়ি, হরিয়ানা ও বেনারসে ১৪টি পৈতৃক বাড়িও রয়েছে তার নামে। এহেন হেভিওয়েট প্রার্থী রাজনৈতিক শিবিরের হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিপক্ষে ভোটে দাঁড়াতে বেশ পছন্দ করেন।

তিনি নিজে জানিয়েছেন, এই দফার ভোটে যে তিনি জিততে পারবেন না তা তিনি নিজেও বেশ ভালো করেই জানেন। তবে ভোটে দাঁড়ানো তার শখ। সেই শখ পূরণের উদ্দেশ্যেই রায়গঞ্জের করণদিঘি কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। ৭৫ বছর বয়সী এই প্রৌঢ় এত বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির অধিকারী হয়েও ভাড়া বাড়িতে থাকেন নিতান্ত শখ করেই।

উত্তর দিনাজপুর জেলাশাসকের দফতরের কর্মী তিনি। তবে একসময় নকশাল দলের জেলা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বিনয় কুমার দাস। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এবং ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনেও ভোটের লড়াইয়ের ময়দানে দেখা গিয়েছিল তাকে। তবে কখনো জিততে পারেননি তিনি। এই দফাতেও জয়ের বিশেষ আশা তিনি রাখছেন না। তবে লড়াইয়ের ময়দানে থেকে পিছু হটবেন না তিনি।

 তবে ২০২১ এই প্রথম নয়। ভোটের ময়দানের পুরনো ঘোড়া বিনয়ের যাত্রা শুরু অনেক আগেই। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এবং ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনেও নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ে হেরে যান বিনয়। তবে সেই হার নিয়ে মনে এতটুকু সংকোচ নেই তাঁর। উত্তর দিনাজপুর জেলাশাসকের দফতরের কর্মী বিনয় ২০০৫ সালে অবসর নেন। এ বার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ এবং করণদিঘি কেন্দ্র থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন বিনয়। রায়গঞ্জ থেকে তাঁর মনোনয়ন যদিও খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

 দীর্ঘ কাল ধরে ভোটে দাঁড়ালেও, কখনও নিজের জন্য ভোট ভিক্ষা করতে দেখা যায়নি তাঁকে। বরং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে থেকে যিনি যোগ্যতম, তিনিই যেন ভোট পান সেটাই চান বিনয়। তাঁর কথায়, ‘‘জিততে পারব না, তা ভাল করেই জানি। কিন্তু ভোটে দাঁড়ানোই আমার শখ। তাই প্রত্যেক বার দাঁড়িয়ে পড়ি। তবে প্রচার থেকে দূরেই থাকি।