ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের দায়বদ্ধতা নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা

6
ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের দায়বদ্ধতা নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা

মা, এই শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সারা পৃথিবী। ঈশ্বর আমাদের কাছে থাকতে পারে না বলে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেন তার সব থেকে প্রিয় জিনিস, মা। এই শব্দে লুকিয়ে রয়েছে দায় বদ্ধতা পরিপূর্ণতা। একজন মা একা হাতেই সবকিছু সামলে দিতে পারেন হাসিমুখে। একজন মা নিজের সমস্ত যন্ত্রণা কষ্ট লুকিয়ে রাখতে পারেন। একজন মা পারেন মৃত্যুকে অতিক্রম করে একটি প্রাণ কে জন্ম দিতে। একজন মায়ের কোনো ক্লান্তি নেই। একজন মা ঘর এবং বাহির সবকিছু সামলাতে পারেন হাসিমুখে। এই চরম সত্য বোধহয় খুব ভালোভাবে এখন উপলব্ধি করছেন আমাদের সকলের প্রিয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। প্রথমবার অন্তঃসত্বা হবার অভিজ্ঞতা থেকে ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে পেশাগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা সবকিছু মিলিয়ে তিনি ভার্চুয়াল ওয়ালে একটি চিঠি পোস্ট করলেন।

আমরা যতই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে পরিবর্তন করে ফেলি না কেন তাও যেন কোথাও এখনো পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আবদ্ধ রয়েছে নারী জীবন। পুরুষদের থেকে একটু হলেও অতিরিক্ত দায়বদ্ধতা থেকে থাকে মেয়েদের। মেয়েদের অতিরিক্ত লেখাপড়া করানো এখনো বহু পরিবারের আপত্তির বিষয়ে। তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে হবে না হলে সন্তান আসবে না। সংসার সামলে নিজের স্বপ্ন দেখা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে বহু নারীদের পক্ষে। কিন্তু ইচ্ছা শক্তি দ্বারা সেই সকল বাধা-বিপত্তি দূর করে দিতে পারে একজন নারী। শুধুমাত্র ইচ্ছাশক্তি দ্বারাই মাতৃত্ব এবং পেশাগত জীবন একসাথে ব্যালেন্স করে রাখা সম্ভব। যদি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা যায় তাহলে নিজের পরিচয় বানানো যেতে পারে। মা হবার পর এই উপলব্ধি করেছেন হায়দ্রাবাদি টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। তবে তার এই উপলব্ধির জন্য তিনি বেশিরভাগ কৃতিত্ব দিতে চান সেরিনা উইলিয়ামস কে।

সানিয়া জানান যে, মার্কিন টেনিস তারকা কে নিয়ে ডকুমেন্টারি” বিয়িং সেরেনা”দেখে সমস্ত মায়ের জন্য খোলা চিঠি লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন যে,”মা হবার অভিজ্ঞতা সত্যিই অন্যরকম। এই একটি অভিজ্ঞতা আমাদের সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দেয়। নিজেকে অনেক বেশি ভালোবাসা শেখায়। এতে ভালো মানুষের পরিণত হওয়া যায়।

তিনি আরো বলেন যে, তার পুত্র সন্তান ইজহান আসার পর তিনি আবার কোর্টে ফিরতে পারবেন কিনা। তবে নিজের ইচ্ছেশক্তি দিয়ে পরিস্থিতিকে জয় করতে শিখেছেন তিনি। স্বাস্থ্যকর ডায়েট করে ২৬ কেজি ওজন কমিয়েছেন। সাঈদীর বিশ্বাস করেন যে তার মত লাখ লাখ মা এইভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। তার মতো বহু মা আছেন যারা দিনের পর দিন দুটি জীবনকে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে চলেছেন। তাদের কুর্নিশ জানাতে ভোলেননি সানিয়া মির্জা। চিঠির শেষে লেখা,”ইতি, সানিয়া মির্জা, একজন মা এবং টেনিস খেলোয়াড়”। তার এই চিঠি বহু মায়েদের কাছে যে অনুপ্রেরণা যোগাবে তা বলাই বাহুল্য।