দেখে নিন হঠাৎ করে অ্যালকোহল পান করা ছেড়ে দিলে শরীরের কি কি সমস্যা দেখা দেয়

93
দেখে নিন হঠাৎ করে অ্যালকোহল পান করা ছেড়ে দিলে শরীরের কি কি সমস্যা দেখা দেয়

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা পার্টিতে একটু আধটু অ্যালকোহল পান হয়েই যায়। অনেকেই রয়েছেন যারা মাঝেমধ্যে অ্যালকোহল পান করেন। আবার অনেকেই রয়েছেন যারা নিয়মিত পান করেন, আর এই অভ্যাস থাকলে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। যাঁদের নিয়মিত অ্যালকোহল পান করার অভ্যাস রয়েছে, তাঁরা যদি হটাৎ করে অ্যালকোহল পান করা ছেড়ে দেন, তবে তাঁদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, যেমন উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, রক্ত জমাট বাধা, কার্ডিওমায়োপ্যাথি, স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, পুরুষদের জন্য সারা দিনে ২ টো ড্রিঙ্ক নেওয়া এবং মেয়েদের জন্য ১ টি ড্রিঙ্ক নেওয়া স্বাভাবিক। এর বেশি পরিমাণে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান করলেই নানা সমস্যা হতে শুরু করে। নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে পান করলে কী কী উপকার হয় জেনে নিন।

২০০৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট ১৫০০ জনের উপরে এক সমীক্ষা চালানো হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যাঁদের শরীরে ব্যথার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই নিয়মিত পান করেন। ধূমপান বেশি করলে, মানসিক অবসাদের শিকার হলে, ড্রাগ নিলে শরীরে ব্যথার প্রবণতা থাকে। সমীক্ষায় প্রমান মিলেছে যে, অ্যালকোহল পান কমিয়ে দেওয়ার পর ব্যথা কমেছে। অ্যালকোহল পান করলে ফ্যাটি লিভার হয়ে যায়, লিভারে চাপ পড়ে, সিরোসিস অব লিভারও হতে পারে। তবে পান করার অভ্যাস কমালেই লিভারের উন্নতি হতে থাকে।

অ্যালকোহল পান করলে মানুষের রক্তচাপ ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করে যে রক্তনালী, সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যার ফলে স্মৃতি লোপ পেতে পারে। নিয়মিত অ্যালকোহল পান করলে ওজন বাড়ে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে মদ্যপান কমাতেই হবে। নিয়মিত অ্যালকোহল পান করলে গভীর ঘুম নষ্ট করে দেয়। ঘুম ভেঙে ভেঙে যায়, এর ফলে পরের সকাল থেকেই ক্লান্ত লাগতে শুরু করে। অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় কম পান করলে ঘুম ভালো হয়।

মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করলে বিস্মৃতি, মানসিক অবসাদ, অল্পেই বিরক্তি, মেজাজ হারানো, হাইপারটেনশন, গর্ভপাত, ক্যানসারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি লিভারের ক্ষতি হয়, মস্তিষ্কের টিস্যু ক্ষয় হয়, হার্টের পেশি দুর্বল হয়ে অ্যারিথমিয়া ও স্ট্রোকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। অ্যালকোহল বেশি পান করলে হজমের সমস্যা, স্বাভাবিক কামক্রিয়ায় বাধা, বয়সের তুলনায় বৃদ্ধ লাগা, বুদ্ধিবৃত্তিগত ক্রিয়া কমে যায়।