আত্মহত্যা করার আগের দিন পোষ্যের জন্য কেয়ারটেকারের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করেছিলেন সুশান্ত

15
আত্মহত্যা করার আগের দিন পোষ্যের জন্য কেয়ারটেকারের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করেছিলেন সুশান্ত

১৪ জুন গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। সুশান্তের লোনাভালা ফার্ম হাউজের কেয়ারটেকার রইস জানিয়েছেন, আত্মহত্যা করার আগের দিন, অর্থাৎ ১৩ জুন তিন পোষ্য অমর, আকবর ও অ্যান্টনির জন্য কেয়ারটেকারের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করেন সুশান্ত। সুশান্তের তিনটি রটউইলার প্রজাতির পোষ্য কুকুর ছিল। তিনি এদের খুব ভালোবাসতেন। এদের নাম রেখেছিলেন অমর-আকবর-অ্যান্টনি। তবে সুশান্তের সবচেয়ে কাছের পোষ্য ছিল ফাজ।

সুশান্তের লোনাভালা ফার্ম হাউজের কেয়ারটেকার রইস সংবাদসংস্থা আইএএনএস কে জানিয়েছেন, ১৪ জুন দুপুরে তিনি টিভির খবর দেখে প্রথম জানতে পারেন, সুশান্ত স্যার আত্মহত্যা করেছেন। তিনি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি। তার আগের দিন তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিনি অমর, আকবর, অ্যান্টনির জন্য টাকা জমা করেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, সুশান্ত এই ফার্ম হাউজে জৈব চাষের পরিকল্পনাও করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, সুশান্ত মাঝে মাঝেই ফার্ম হাউজে চলে আসতেন, তবে শেষ দিকে কয়েক মাস আসেননি। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে ইউরোপ ভ্রমণের পর থেকেই সুশান্ত ভালো ছিলেন না। প্রায় ২ মাস তিনি ফার্ম হাউজেও আসেননি বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেছেন, ২০১৮ সালে সুশান্ত লোনাভালার ফার্ম হাউজটি ভাড়ায় নেন। এর পরে ১ বছরের মাথায় চুক্তি নবীকরণের সময়ে তিনি এটি কিনে নিতে চান। তিনি এখানে পাকাপাকি ভাবে চলে আসতে চেয়েছিলেন। তবে এই ফার্ম হাউজের চুক্তির মেয়াদ গত মে মাসে শেষ হয়ে গিয়েছে। সুশান্ত স্যার জুন ও জুলাই মাসের টাকা অগ্রিম পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। মার্চ মাসের পরেই সুশান্ত ২-৩ মাস এখানে থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। সুশান্ত বিশেষ অনুষ্ঠানে আসতেন, রিয়া এবং তাঁর বাবার জন্মদিন এই ফার্ম হাউজেই পালন হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারি মাসে সুশান্ত স্যার এসেছিলেন।

জানুয়ারি মাসে রিয়াকে নিয়ে এসেছিলেন জন্মদিনের অনুষ্ঠান করতে। সেই সময়ে সঙ্গে স্যামুয়েল মিরান্ডা, শ্রুতি মোদী এবং আরও কিছু বন্ধু এসেছিলেন। এর পরে সুশান্ত স্যার আবার ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে আসেন। সেই সময়ে দীপেশ সাবন্ত, সিদ্ধার্থ পিঠানি, নীরজ এবং কেশব নামে এক রাঁধুনি তাঁর সঙ্গে এসেছিলেন। মার্চ মাসে ফের আসার কথা থাকলেও তা বাতিল হয়ে যায়। তিনি আরও বলেছেন, জানুয়ারি মাসে তিনি যখন এসেছিলেন, তখন সবাই মিলে পাভানা নামে একটা দ্বীপে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে শ্রুতির পা ভেঙে যায়। তাঁকে প্রথমে লোনাভালার এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই দিনই মুম্বইতে চলে যান। এখন লোনাভেলার ফার্ম হাউজ ফাঁকা রয়েছে। অমর, আকবর, অ্যান্টনিকে নিয়ে রয়েছেন রইস। এই তিন জনকে যদি কেউ দত্তক নেয়, এই অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।