আশ্চর্য রীতি! একের অধিক স্বামী নিয়ে সংসার করতে হয় এই মহিলাদের

21
আশ্চর্য রীতি! একের অধিক স্বামী নিয়ে সংসার করতে হয় এই মহিলাদের

এই যুগে দাঁড়িয়েও এমন এক আশ্চর্য ঘটনার সাক্ষী রাখতে হবে তা হয়তো আমরা কেউই ভাবি নি। অদ্ভুত এক সম্পর্কের কথা জানলাম, যদিও তা অত্যন্ত প্রাচীন, কিন্তু তার অস্তিত্ব আজও যে আছে। সেটা ভেবেই আশ্চর্য হতে হয়।

সেটি হলো একজন স্ত্রী র একের অধিক স্বামী থাকতে পারে, এই রীতি বিশ্বাস করেন পাঞ্জাবের কয়েকটি এলাকার উপজাতি সম্প্রদায়। তাদের বাস হিমালয়ের কোলে, সেখানেই তারা বসবাস করেন। এমনিতে তাঁদের দুই পুত্র সন্তান থাকা সত্ত্বেও একের অধিক স্বামী নিয়ে সংসার। একটি মেয়ের পাঁচজন করে স্বামী থাকতে পারে, এই গ্রামের সমস্ত মহিলারাই এই রীতি মেনে চলেন। এরকম ঘটনা আমরা পড়েছি মহাভারতে, যেখানে দ্রৌপদীর বিবাহ হয়েছিল পঞ্চপান্ডবের সাথে।

সেই ঘটনাই এখন বাস্তবে, কিন্তু তাদের এই রীতির পেছনে কোন একটি গূঢ় কারণ আছে, তা হল সেখানে অত্যন্ত পরিমাণে ভূমি সংকট। যার ফলে একটি মেয়েকে বিবাহ করে একই পরিবারের সাত-আটজন ভাই মিলে। যার ফলে সুবিধা এটাই হয়, যখন একই পরিবারের সাত আট ভাই মিলে একটি মাত্র মেয়েকে বিয়ে করে আনে, আলাদা করে কারো নামে জমি ভাগাভাগি করতে হয় না, এটি সম্ভব হয়েছে শুধুমাএ একটিমাত্র স্ত্রী হওয়ার দরুনই। আর যদি এটি না হয়ে ঠিক উল্টো টি হতো, প্রত্যেক ভাই এক একটি মেয়েকে বিয়ে করে আনত। তা হলে প্রথমে জমিজমা ভাইদের মধ্যে ভাগাভাগি করতে হতো, তারপর আলাদা করে প্রত্যেকে ওই জমি পরবর্তী প্রজন্মের নামে করতো। সেটি বড় অসুবিধাজনক।

এছাড়াও আরও একটি সমস্যা হচ্ছে সামগ্রিকভাবে পাঞ্জাবে এখন নারী পুরুষ এর আনুপাতিক হার দাঁড়িয়েছে ৭৯৩ জন নারীর বিপরীতে আছেন হাজার জন পুরুষ। যে কারণে পুরুষান্তরের জমির পরিমাণ কমেছে। সেটি সুরাহা র পথ বাছতে বর্তমানে একই পরিবারের ভাইয়েরা একটিমাত্র মেয়েকে নিয়ে সংসার করছে। তবে এসবের ফলে বাড়ছে সেখানে বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা, তবে এখন অনেকে সেখানকার পুরুষেরা পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহার, উত্তর প্রদেশ বিভিন্ন জায়গা থেকে বিয়ে করে আনছে মেয়েদের। যার ফলে বউকেও বাধ্য করা হচ্ছে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তার পছন্দসই বরের অন্য কোন ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক রাখতে, যা অত্যন্ত এক অপ্রীতিকর ঘটনা।