আজব গ্রাম! আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে নগ্ন হয়ে ঘুরে বেড়ান গ্রামবাসীরা

35
আজব গ্রাম! আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে নগ্ন হয়ে ঘুরে বেড়ান গ্রামবাসীরা

একটি আদর্শ জীবন যাপন করার জন্য সবথেকে বেশি দরকার অর্থ এবং তারপর সঠিক বাসস্থান, সঠিক খাদ্য এবং সঠিক পোশাক। বৃটেনের হার্টফোর্ড শায়ারে স্পিলপ্লাজ বলে একটি গ্রাম রয়েছে যেখানে প্রত্যেকটি মানুষ বিত্তশীল। বাসিন্দাদের প্রায় সকলেই সচল ভাবে জীবন যাপন করেন। গ্রামটিকে বেশ সৌখিন ভাবে সাজানো হয়েছে। চোখে রয়েছে দামি সানগ্লাস, গলায় সোনার চেন, আঙুলে আংটি, এককথায় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল মানুষের যা যা থাকা উচিত, সব কিছুই রয়েছে তাদের।

গ্রামে বড় পানশালা থেকে আরম্ভ করে শিশুদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র, সব কিছুই রয়েছে উপস্থিত। কিন্তু এত কিছু থাকলেও আপনি ওই গ্রামের মানুষদের দেখলে অবাক হয়ে যাবেন। এই গ্রামের মানুষের মধ্যে নেই লজ্জা। যদিও আপনি তাদের দেখে লজ্জিত হয়ে যেতে পারেন। এই গ্রামের প্রত্যেকটি মানুষ প্রকাশ্য দিবালোকে উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়ান। তাদের পরনে থাকে না একটি সুতোও। লজ্জার ভূষণ পরিধান করা নিষেধ এই গ্রামের মানুষদের।

এই গ্রামের বাসিন্দারা এই গ্রাম থেকে বৃটেনের সবথেকে পুরনো নগ্নতাবাদী অঞ্চল বলে দাবি করে থাকেন। বাসিন্দাদের এই নগ্নবাদকে যদি সমর্থন না জানানো যায় তাহলে এই গ্রামে আপনি বসবাস করতে পারবেন না। এই নগ্নবাদকে যদি আপনি মেনে নিতে পারেন তাহলে এই গ্রামে জলের দরে পেয়ে যেতে পারেন আপনি জমি। জানা গেছে, ১৯২৯ সালে লন্ডন ছেড়ে চার্লস ম্যাকস্কি এবং তার স্ত্রী ডোরথি এ গ্রামে বসতি স্থাপন করেন।

এই গ্রামে জমি কিনে প্রথমে তারা দুজনেই বসবাস করতে শুরু করেন তাঁবু খাটিয়ে। এলাকাটির নাম দেন খেলার জায়গা। এরপর আস্তে আস্তে তাদের পরিচিত তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন এবং সেখানে বসবাস করতে শুরু করে দেন। এই ভাবে গড়ে ওঠে আরও বেশি জনবসতি। ১২ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই গ্রামেই বর্তমানে পঞ্চান্নটি বাড়ি রয়েছে। গ্রামে প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক সংযোগ সবই রয়েছে। এমনকি ফ্যাশনেবল জামাকাপড় রয়েছে তাদের কাছে কিন্তু সেই জামাকাপড় শুধুমাত্র তারা গ্রামের বাইরে যখন যান তখন পরিধান করেন। গ্রামে থাকার সময় নগ্ন হয়ে থাকাটাই তাদের কাছে বেশ পছন্দের একটি বিষয়।