বাংলায় বিজেপির ভরাডুবির পাঁচটি কারণ দেখেছেন রাজ্য নেতারা

36
বাংলায় বিজেপির ভরাডুবির পাঁচটি কারণ দেখেছেন রাজ্য নেতারা

সুদূর দিল্লি থেকে বারবার তারা উড়ে এসেছিলেন বাংলায়। একপ্রকার তারা ধরে নিয়েছিলেন যে, তারা চলতি বছর থেকেই শাসন শুরু করবে বাংলায়। কিন্তু বাংলার মানুষ মুখে কিছু না বললেও কাজে দেখিয়ে দিয়েছেন সবকিছু। নিরবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তারা চান না কেন্দ্রীয় সরকার কে। সম্প্রতি নিজেদের হার নিয়ে জল্পনা কল্পনা করতে বসেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ নেতা-নেত্রীরা। প্রাথমিকভাবে হেরে যাবার পাঁচটি কারণ দেখেছেন রাজ্য নেতারা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহো থেকে শুরু করে জেপি নাড্ডা সকলেই বহু চেষ্টা করলেন কিন্তু কিছুতেই পারলেন না বাংলার মানুষের মন জয় করতে। তার প্রধান কারণ হলো, প্রধানমন্ত্রী বারবার প্রচার আসলেও তারা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাউকে তুলে ধরতে পারেননি কারোর কাছে। অমিত শাহ ওরা বারবার বাংলার ভূমি পুত্র হবেন মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন কিন্তু, সঠিকভাবে কারণ নাম উল্লেখ করতে পারেনি তারা। শাসক দলের নেতাদের নিজেদের দলের টানা থেকে শুরু করে আম্ফান এর মত ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়টি তুলে ধরলেও তারা কোন ভাবে মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি।

ধর্মীয় মেরুকরণ এর পথে হেটে ভোটারদের টার্গেট করেছিল তারা। তারা ভেবেছিলেন যে হিন্দু ধর্মালম্বীদের যদি পকেটে রাখা যায় তাহলে অনায়াসে তাদের পকেটে চলে আসবে। কিন্তু এই কৌশল কিছুতেই কাজে আসেনি। বিজেপিকে আটকানোর জন্য শুধুমাত্র হিন্দু নয় সব রকম ধর্মের মানুষ এগিয়ে এসেছিল। হিন্দুদের প্রাধান্য না দিয়ে যদি সমস্ত মানুষকে প্রাধান্য দিত বিজেপি, তাহলে হয়তো তাদের জয় নিশ্চিত হত।

তৃতীয়ত, ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির লক্ষ্য ছিল লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল। আবেদনের অভিজ্ঞতার তুলনায় লক্ষ্যটা ছিল অনেকটাই বেশি। অন্যদিকে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতাদের বারবার বহিরাগত বলে আঘাত করেছিল তৃণমূল সরকার। নিজেদের বহিরাগত কটাক্ষের পাল্টা আক্রমণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল বিজেপি। তারা দিল্লীর মানুষ, তারা বাংলার ভাষা সংস্কৃতি কিছুই বোঝেন না। এদিকে কত বড় সত্য কথাটা বারবার প্রমাণিত হয়ে গেছে।

রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব মনে করেছে যে মুসলমান এক জায়গায় হলেও হিন্দু ভোটের সিংহভাগের কাছে হেরে যাবে। অন্যদিকে তৃণমূল নেতাদের বারবার নিজের দিকে টেনে নেওয়াটাও বুমেরাং হয়ে গেছে বিজেপির ক্ষেত্রে। দলভারী করেও খুব একটা লাভ হয়নি। মানুষের কাছে ক্রমাগত বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব তৈরি করে ফেলেছে বিজেপি সরকার।

বিজেপির পুরনো নেতাকর্মীরা সব জায়গায় প্রাধান্য পায় নি। তার জায়গায় তৃণমূল থেকে নিয়ে আসা দলীয় কর্মী দের বেশি প্রাধান্য দিয়েছে বিজেপি নেতারা। এটাও ঠিক মেনে নেওয়া যায় নি।

সবশেষে নির্বাচনের আগে যেভাবে পেট্রোল ডিজেল এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছিল, তার ফলে এক প্রকার বিজেপির হার নিশ্চিত ছিল বাংলাতে।