নিজস্বতা হারিয়ে না ফেলে প্রথম থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানঃ নুসরাত

24
নিজস্বতা হারিয়ে না ফেলে প্রথম থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানঃ নুসরাত

অভিনেত্রী নুসরত জাহান, যিনি কিনা একজন সাংসদ বটে। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে মানিয়ে নেওয়ার পক্ষপাতী কোন দিন ছিলেন না। তাই হয়তো বিয়ের এক বছর কাটতে না কাটতেই দাম্পত্য জীবন থেকে বেরিয়ে এসে একাকী জীবন বেছে নিয়েছেন তিনি। হাজার উপহাস এবং কটাক্ষ কে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে তিনি নিজের অবস্থানে অনড়। নিজের ব্যক্তিগত জীবনে নিজের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সর্বদা অগ্রগণ্য বলে মনে করেছেন তিনি। সেখানে কারোর হস্তক্ষেপ সহ্য করেন না এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি গর্ভনিরোধক ওষুধ সংস্থার হয়ে প্রচার করতে ফেসবুক লাইভে এসেছিলেন তিনি। সেখানেই তার সঙ্গে দেখতে পাওয়া যায় পরিচালক এবং প্রযোজক সুদেষ্ণা রায়কে। দীর্ঘক্ষণ মহিলাদের নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন তারা। সমাজকে উপেক্ষা করে কিভাবে নিজের অধিকার বুঝে নিতে হবে তার জন্য অনেক কথাই বলেছেন তিনি।

নুসরত বলেছেন, আমাদের লড়াই আমাদের নিজেদেরই লড়তে হবে। ছলনার আশ্রয় নিয়ে মিথ্যে জীবনের আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়, স্বামীর অত্যাচার করলেও সমাজের ভয়ে চুপ করে থাকা উচিত নয় কোনদিন। প্রথম থেকে যদি বিরোধিতা না করা হয় তাহলে, নিজের জীবনটা কোথাও যেন হারিয়ে যায়। নিজস্বতা হারিয়ে না ফেলে তাই প্রথম থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

পাশাপাশি তিনি এও বলেন, দাম্পত্য যদি বিষাক্ত হয়ে যায়, তাহলে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা মঙ্গল। সামাজিক মাধ্যম কে হাতিয়ার করে প্রত্যেকটি মহিলার উদ্দেশে তিনি বলেন, মনের আনন্দে বাঁচতে হবে সকলকে। আমাদের আশেপাশে যে সমস্ত মেয়েরা বিপদে রয়েছে, তাদের সাহায্য করুন, এগিয়ে আসুন। প্রশাসন সব সময় আপনার পাশে আছে।

সবশেষে মাতৃত্ব প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, নারী জন্মের শেষ কথা শুধু মা হওয়া নয়। নিজের শরীর এবং মন প্রস্তুত না হলে কখনোই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। জেনে রাখবেন, আপনি প্রস্তুত না হলে অন্য একটি প্রাণকে এই পৃথিবীতে আনবেন না। একটি ভুল সিদ্ধান্ত সারা জীবনের জন্য ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

নুসরাতের পাশাপাশি সমাজের প্রচলিত ধ্যান-ধারণা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সুদেষ্ণা রায় জানিয়েছেন, অনেকেই মনে করেন, ছোট বয়স থেকে মেয়েরা প্রেম করলেই সেটা অন্যায় হয়ে যায়। মেয়েদের বশে আনতে গিয়ে বাল্যবিবাহ দিয়ে যান তারা। প্রেম করা মানেই কিন্তু বিয়ে করা নয়। পছন্দ না হলে বুঝিয়ে বলতে হবে কিন্তু ছোট বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া একেবারে উচিত নয়।

কথা বলতে বলতেই নুসরাতের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে তিনি সুদেষ্ণা রায়কে বলেন, যেহেতু আমরা একজন পাবলিক ফিগার তাই আমাদের নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। এই সমস্ত কথাকে আমি সযত্নে এড়িয়ে চলতে ভালোবাসি। অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী, তাই হাতের কাছে সোশ্যাল মিডিয়া পেয়ে মানুষ সেটির অপব্যবহার করে। তবে ভালোবাসার মানুষও যে কম নেই, তা ফেসবুক লাইভে এসে বোঝা যায়।