বছরে প্রায় ৩০০ দিন ঘুমান! বিরল রোগে আক্রান্ত রাজস্থানের এই বাসিন্দা

20
বছরে প্রায় ৩০০ দিন ঘুমান! বিরল রোগে আক্রান্ত রাজস্থানের এই বাসিন্দা

সকলেরই জীবনে কিছু না কিছু একটা কাজ থাকে যা করতে খুব ভাল লাগে, তবে এবার জানা গেল ঘুম প্রেমীর কথা যে নাকি বছরে প্রায় ৩০০ দিন ঘুমায়। শুনতে আজব লাগলে এটাই সত্যি সাধারণভাবে আমরা ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমাই এবং কেউ যদি ঘুম বেশি পরিমানে ভালোবাসে সে হয়তো ১০ থেকে ১২ ঘন্টা । তাই বলে ৩০০ দিন কেউ ঘুমিয়ে থাকতে পারে সেটা সত্যি আশ্চর্যজনক কিন্তু এটা সত্যিই ঘটেছে।এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে রাজস্থানের বাসিন্দা পুরখারাম। সে নাকি ৩৫৬ দিনের মধ্যে ৩০০ দিন ঘুমিয়ে কাটান, এই ব্যক্তির বয়স ৪২ বছর।

এরকম ঘুমের জন্য সকলে তোকে কুম্ভকর্ণ বলে। আমাদের মত সাধারণ পরিবারে বেশিরভাগ যে একটু বেশি সময় ধরে ঘুমায় তাকে এই সকলে কুম্ভকর্ণ বলে ডাকে। কুম্ভকর্ণ পৌরাণিক কাহিনীর এক চরিত্র রাবণের ভাই কুম্ভকর্ণ। রাবন এবং কুম্ভকর্ণ দুজনেই ব্রহ্মাদেবের কাছে বর চেয়েছিলেন। রাবণ তার বর পেয়ে গেলেও কুম্ভকর্ণের ব্যাপারে সরস্বতী মা তাঁর জিভ আরষ্ট করে দিয়েছিল, যার পরে তিনি ব্রহ্মাদেব এর কাছে নিদ্রাসন চেয়ে ছিলেন। এবং তারপরেই এই বর অনুযায়ী ছয় মাসে প্রায় ঘুমিয়ে থাকতো কুম্ভকর্ণ।

পুরখারাম কুম্ভকর্ণের উপাধি পেয়েছে অবশ্য নিজের এই ধরনের গুনের জন্যই। আসলে তার শরীরে অ্যাক্সিস হাইপারসোমনিয়া নামের একটি রোগ বাসা বেধেছে। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে ঘুমাতে থাকেন। এই সমস্যা ২৩ বছর আগে হয়েছিল এবং সে মাসের প্রায় ২৫ দিন ঘুমিয়ে থাকে। সংসার চালানোর জন্য মুদির দোকান খুলে ছিলেন তিনি, কিন্তু ঘুমের এইরকম একটি রোগের জন্য বেশি সময় আর খোলা রাখতে পারে না তার দোকান।

এখন তার এমন অবস্থা হয়েছে দোকান খুলে বসে ঘুমিয়ে পড়েন এবং এমন ঘুম ঘুমায়, যে তাকে ঘুম থেকে তাকে তোলার সাধ্য কারও নেই। তবে তার সংসার চলে কিভাবে এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। আসলে তার এরকম রোগের জন্য তার পরিবার আত্মীয় এবং পাড়ার লোকেরাই তার খেয়াল রাখে। পুরখারাম ঘুমিয়ে থাকলেও তার স্ত্রী তাকে খাইয়ে দেন, এমনকি স্নান করিয়ে দেন। ডাক্তার দেখানো হয়েছে তাকে কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। পুরখারামের মা এখন একটাই আশা করেন যে হয়তো একদিন না একদিন তার ছেলে সুস্থ হয়ে যাবে।