সীতার অভিশাপ আজও বিরাজমান পৃথিবীর এই চারজনের উপর

20
সীতার অভিশাপ আজও বিরাজমান পৃথিবীর এই চারজনের উপর

ভারতের আদি মহাকাব্য রামায়ণ। বিষ্ণু দেবতার সপ্তম অবতার রামচন্দ্র এবং লক্ষ্মী দেবীর অবতার মাতা সীতার গল্প নিয়েই ভারতের প্রথম মহাকাব্য রচনা করা হয়। রামায়ণে বহু পৌরাণিক কল্প কাহিনীর উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সীতার অভিশাপ! বনপর্বে অযোধ্যা থেকে বিদায় নিয়ে শ্রী রাম, সীতা এবং লক্ষণ যখন বনবাসের উদ্দেশ্যে বের হন তখনই পুত্রশোকে রাজা দশরথের মৃত্যু হয়।

দশরথের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া মাত্র দশরথপুত্র রাম ও লক্ষণ পিতার আত্মার শান্তির জন্য পিন্ডদানের বন্দোবস্ত করতে বের হন। এদিকে তাদের আসতে দেরি হওয়াই সীতা নিজেই বালির পিন্ড প্রস্তুত করেন এবং তা দশরথের উদ্দেশ্যে দান করেন। দশরথের আত্মাও পুত্রবধূর হাত থেকে সেই বালির পিণ্ড গ্রহণ করেছিলেন।

সীতা এই ঘটনার সময় পুরোহিত, গরু, কাক এবং ফল্গু নদীকে সাক্ষী হিসেবে মেনে ছিলেন। প্রসঙ্গত হিন্দু শাস্ত্র মতে মহিলাদের পিন্ডদান নিষিদ্ধ। এরপর যখন রাম লক্ষণ ফিরে আসেন তখন সীতা তাদের জানান দশরথকে পিণ্ড প্রদান করেছেন তিনি। রাম সীতার কথায় অবিশ্বাস করলে সীতা তখন তার চার সাক্ষীকে ডাকেন। তবে চার জনই মিথ্যে সাক্ষী দেয়।

এমন দ্বিচারিতা দেখে ক্ষুব্ধ হন সীতা। যার ফলে তিনি চারজনকেই অভিশাপ দিয়ে বসেন। তিনি পুরোহিতকে এই অভিশাপ দেন যে, পুজোর পর পুরোহিত যে দক্ষিণা পাবে তাতে তার আশা কোনদিনও পূরণ হবে না। সীতার অভিশাপে ফল্গু নদী সারাবছর শুষ্ক থাকে। কাককে সীতা অভিশাপ দেন, তোমরা কখনো পেট ভরে খেতে পাবে না! খাবার সংগ্রহের জন্য মারামারি করতে হবে। আবার গরুকে সীতা অভিশাপ দেন, তুমি সকলের পুজ্য হলেও তোমাকে বাড়ির সকলের উচ্ছিষ্ট খেতে হবে।