লাদেনের উপস্থিতি সম্পর্কে আমেরিকাকে নিশ্চিত খবর দিয়ে আজও জেলবন্দী পৃথিবীর নায়ক শাকিল আফ্রিদি

10
লাদেনের উপস্থিতি সম্পর্কে আমেরিকাকে নিশ্চিত খবর দিয়ে আজও জেলবন্দী পৃথিবীর নায়ক শাকিল আফ্রিদি

আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে,২০১১ সালের ২ মে, যখন সারা পৃথিবী গভীর নিদ্রায় মগ্ন ঠিক তখনই পৃথিবীতে সন্ত্রাস মুক্ত করার জন্য অত্যন্ত গোপনে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন আমেরিকা। সমগ্র পৃথিবীর ত্রাস কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদি ওসামা বিন লাদেন, যাকে নাকি খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না, রাতারাতি তাকে খতম করে ফেলেছে আমেরিকা। এই খবরটি গোটা বিশ্ববাসীকে এক মুহূর্তের জন্য স্তম্ভিত করে দিয়েছিল।

২৬/১১ আমেরিকার টুইন টাওয়ারে বিমান হামলার দৃশ্য তখন ভুলতে পারেনি বিশ্ববাসী, পৃথিবীর ইতিহাসে সবথেকে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদি হামলা হিসেবে চিহ্নিত থাকবে আমেরিকার টুইন টাওয়ারে বিমান হামলার দৃশ্যটি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সেই অভিশপ্ত দিনের কুড়ি বছর পূর্ণ হবে, চলতি বছরের মে মাসে ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে লাদেনের মৃত্যুর।

কিন্তু লাদেনকে খতম করার গোটা ঘটনাটি আমেরিকার একার পক্ষে করা সম্ভব ছিল না। এই ঘটনায় পাকিস্তানের এক বাসিন্দা আমেরিকাকে লাদেনের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত খবর পাঠিয়ে ছিলেন, সেই খবর পাঠিয়েছিলেন শাকিল আফ্রিদি। লাদেনের উপস্থিতি সম্পর্কে আমেরিকাকে পাকা খবর পাঠাতেন তিনি। তার পরিকল্পনা সম্পর্কে কেউ আন্দাজ করতে পারেনি ঠিকই, তবে লাদেনের মৃত্যুর পর পাকিস্তানের চোখে তাঁকে দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

লাদেনকে ধরার সহজ কাজ ছিল না, তার ওপরে পাকিস্তান ছিল লাদেনের সহায়। তবে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ছিলেন নাছোড়বান্দা। প্রতিশোধ নিতে তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন যে আমেরিকার প্রত্যেক মানুষের মন থেকে লাদেনের ভয় চিরতরে মুছে দিতে হবে।

তাই শাকিল আফ্রিদির সহায়তায় এই কাজ করল আমেরিকা। পেশায় চিকিৎসক শাকিল তার দলবল নিয়ে লাদেনের এলাকায় হেপাটাইটিস বি টিকা করন শিবিরের আয়োজন করেছিলেন। স্থানীয় প্রশাসনকে রাজি করিয়ে শহরে স্বাস্থ্য দপ্তর কে বুদ্ধি করে সরিয়ে দিয়ে শাকিল নিজেই সমগ্র কর্মসূচির দায়িত্ব নিয়েছিলেন। বিষয়টিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য ওই এলাকার দরিদ্র মানুষের টিকাকরণ কর্মসূচি নিয়ে এসেছিলেন শাকিল।

টিকাকরণের আরালি লাদেনের পরিবারের কোন সদস্যের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন শাকিব। এই নমুনা তিনি সরাসরি আমেরিকায় পাঠিয়ে দেন, বাকি কাজ করেছিল আমেরিকা। লাদেনের বোনের ডিএনএ মিলাদের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ছিল আমেরিকা। এরপরই বারাক ওবামার নির্দেশ অনুযায়ী ২ রা মে, ২০১১ গভীর রাতে আমেরিকা পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে উড়ে যায়। মাত্র ৪৫ মিনিটের অপারেশনে পরিবারসহ লাদেন ধ্বংস হয়ে যায়। হোয়াইট হাউসে বসে তখন সমগ্র ঘটনাটি লাইভ ভিডিও দেখেছিলেন বারাক ওবামা। সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের মাটিতে লাদেন কে ধ্বংস করে দিয়ে রীতিমত হুলুস্থুল কাণ্ড বাঁধিয়ে বসেছিলেন বারাক ওবামা।

সারা পৃথিবী জুড়ে তখন আমেরিকার জয়জয়কার। তবে এই কৃতিত্ব পাওয়ার কথা ছিল শাকিলের, যাকে পাকিস্তানের আদালত দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে লাদেন নিধন অপারেশনের সঙ্গে শাকিল আফ্রিদি সরাসরি কোনো যোগসূত্র স্থাপন করতে পারেনি পাকিস্তান সরকার। তবুও বিদেশী সংস্থার হয়ে কাজ করার জন্য তিনি ৩৩ বছর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।আজও পাকিস্তানের কোন কারাগারে নিভৃতে বসে জীবনযাপন করছেন তিনি। আজও সারা পৃথিবীর নায়ক শাকিল আফ্রিদি মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছেন।