দুধ বিক্রি করা নাকি একটি পাপ কাজ, জানুন এই গ্রামের কাহিনী

7
দুধ বিক্রি করা নাকি একটি পাপ কাজ, জানুন এই গ্রামের কাহিনী

প্রত্যেক শিবরাত্রির সময় সোশ্যাল মিডিয়া ভরে যায় এই কথাতে যে, কেন এই দুধ ভগবান শিব কে অর্পন না করে গরীবদের দান করা হচ্ছে না। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের অনেক এলাকায় দুধ ব্যবসায়ীরা দুধের দাম বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। বিক্ষোভের সময় অনেকেই রাস্তায় দুধ ঢেলে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, তাদের এমন দূর অপচয় করে বিক্ষোভ দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। অনেক নেটিজেনদের বক্তব্য ছিল, যে দেশের বহু শিশু দুধ না পেয়ে অপুষ্টির শিকার হয়, সেখানে এভাবে দুধ অপচয় করে বিক্ষোভ দেখানো দৃষ্টিকটু।

তবে এই সবকিছুর ওপরে এখনো মানবিকতা বেঁচে আছে। আমাদের দেশে এমন গ্রাম আছে যেখানে এখনও পর্যন্ত কখনো দুধ বিক্রি করা হয় না। এই চলতি বছরেও এমন একটি গ্রাম রয়েছে যেখানে দুধ যাদের প্রয়োজন তাদের বিনিপয়সায় বিলিয়ে দেওয়া হয়, এ শুধু একদিন দুদিনের ব্যাপার নয়, বহু বছর ধরে এই রীতি চলে আসছে। এই গ্রামের লোকজন নিজেদের শ্রীকৃষ্ণের বংশধর বলে দাবি করেন, তাদের কাছে দুধ বিক্রি করা একটি পাপ কাজ।

মহারাষ্ট্রের হিঙ্গলি জেলার ইয়েলেগাওতে এখনো পর্যন্ত কোন ব্যক্তি দুধ বিক্রি করেনি। সেখানে প্রত্যেকটি ঘরে গরু রয়েছে। রোজ প্রায় কয়েক শ লিটার দুধ পান সেই গ্রামের মানুষেরা। কিন্তু সেই দুধের প্রতি পুরোটাই চলে যায় দরিদ্রদের সেবায়। রাজাভাউ মন্ডাডে নামে এক গ্রামবাসী জানান যে, আমরা নিজেদের শ্রীকৃষ্ণের বংশধর বলে থাকি। তাই আমরা কখনো দুধ বিক্রি করি না।আমাদের গ্রামের তাই প্রত্যেকের বাড়িতে গরু রয়েছে। গরু ছাড়াও রয়েছে মহিষ এবং ছাগল। বহু যুগ ধরেই পরম্পরা এখানে চলে আসছে। দরিদ্রদের রোজ দুধ দান করে দেওয়া হয়। কখনো যদি দুধের উৎপাদন অতিরিক্ত বেশি বেড়ে যায়, তখন আমরা সেই দুধ দিয়ে দুগ্ধজাত দ্রব্য বানিয়ে ফেলি। কিন্তু সেগুলোও আমরা বিক্রি করি না। বিনামূল্যে দরিদ্রদের মধ্যে দান করে দেওয়া হয় সেগুলি।

প্রতিবছর ধুমধাম করে জন্মাষ্টমী পালন করা হলেও এবারে পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। মানুষজনের সামনেই গ্রামে। তাই প্রত্যেকের মন খুব খারাপ। শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে প্রতিবছর জাঁকজমক করে শ্রীকৃষ্ণের পূজা করা হয়। কিন্তু চলতি বছরে সাদামাটাভাবেই শ্রীকৃষ্ণের পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল এই গ্রামে। আশ্চর্যজনক ভাবে এই গ্রামের যে কয়েকটি মুসলমান পরিবারে রয়েছে, তারাও পরম্পরা মেনে দুধ বিক্রি করেনি আজ পর্যন্ত। বরং জন্মাষ্টমী পূজা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে বরাবর।