শাস্ত্রের বিধি ত্যাগ করে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী বিচরন করে যারা, দেখে নিন তাদের সম্পর্কে গীতায় কি বলেছেন শ্রীকৃষ্ণ

13
শাস্ত্রের বিধি ত্যাগ করে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী বিচরন করে যারা, দেখে নিন তাদের সম্পর্কে গীতায় কি বলেছেন শ্রীকৃষ্ণ

হিন্দু ধর্মে এমন বহু প্রথা আমরা দেখতে পাই যা একেবারেই শাস্ত্র সম্মত নয়। অনেকেই শাস্ত্র ঠিকমত না পড়ে তা নিয়ে কথা বলেন। কলিযুগে ইচ্ছামত তীর্থ, পুজো, উৎসব এই সমস্ত করতে দেখা যায় মানুষকে। ষোলো সংস্কারের বৈদিক নীতি প্যাক করে দিয়ে অন্যান্য রীতিনীতিতে নিজেদের নিয়োজিত করেছে বহু মানুষ। এমনকি দেবী দেবতার পরিবর্তে তথাকথিত গুরু, পূর্বপুরুষ, পিশাচ ইত্যাদির পুজোতে লিপ্ত হয়েছেন। এই সমস্ত পথভ্রষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে গীতায় কিছু কথা উল্লেখ করেছেন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। তিনি উল্লেখ করে বলেছেন যে,

১. যান্তি দেবব্রতা দেবান্পিতৃন্যান্তি পিতৃব্রতাঃ। ভূতানি যান্তি ভূতেজ্যা যান্তি মধ্যাজিনোপি মাম্।।

যারা দেবতাদের পুজো করেন তারা দেবতা লাভ করবেন, পূর্বপুরুষ কি পূজা করলে সেই ব্যক্তি পূর্ব পুরুষের কাছে পৌঁছে যাবেন। ভূতকে পুজো করলে ভূতের কাছে যাবেন এবং যদি পরমেশ্বরকে পূজা করা হয় তাহলে ভক্তগণ পরমেশ্বর এর কাছে যাবে। পরম ঈশ্বরের উপাসনা করলে ভক্তদের পুনর্জন্ম হয় না।

২. ভূতান্প্রেত গণান্শ্চাদি যজন্তি তামসা জনা। তমেব শরণং গচ্ছ সর্ব ভাবেন ভারতঃ।।

তামসিক ব্যক্তিরা ভূত-প্রেতের উপসনা করেন। যারা সাংসারিক ইচ্ছার অধীন তারা ঈশ্বর অতিরিক্ত নিজের জন্য মিথ্যে উপাস্য নির্মিত করেছেন। যারা বিশ্বাস করেন যে, যে আমি আছি, আমি অজন্মা এবং আমার কোন সূচনা নেই, আমি এই ব্রম্ভান্ডের মালিক, তারা শুধুমাত্র আমার উপাসনা করবেন

৩. যঃ শাস্ত্রবিধিমুত্সৃজ্য বর্তনে কামকারতঃ। ন স সিদ্ধিমবাপ্নোতি ন সুখং ন পরাং গতিম্।।

যে পুরুষ শাস্ত্রের বিধি ত্যাগ করে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী আচরণ করে, তারা সিদ্ধিলাভ তো করতে পারেই না, উপরন্তু তারা কোন সুখ ও ভোগ করতে পারে না।