দেখুন কীভাবে এক দেশের দানব অন্যদেশে সুস্বাদু খাবারের রান্নার পদ হয়ে উঠেছে

7
দেখুন কীভাবে এক দেশের দানব অন্যদেশে সুস্বাদু খাবারের রান্নার পদ হয়ে উঠেছে

অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ আমাদের এই পৃথিবী। এই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন মানুষের বাস। ক্ষেত্রবিশেষে এদের আচার-ব্যবহার, রীতিনীতি, পোশাক-আশাক, জীবনধারণ প্রক্রিয়া, খাদ্যাভ্যাস সবই ভিন্ন। এক দেশের মানুষের কাছে যা অভাবনীয়, অন্য দেশের মানুষ অবশ্য তাতেই স্বচ্ছন্দ্য। এক দেশের মানুষ যাদের ভয় পান, যাদের থেকে দূরে থাকতে চান, অন্য দেশের মানুষ আবার তাদেরই ধরে কেটে খেয়ে ফেলেন!

সমুদ্রে বসবাসকারী পৃথিবীর আদিমতম জীব হলো ল্যামপ্রে। এই অদ্ভুত সামুদ্রিক মাছটির বৈশিষ্ট্য হলো এদের চোয়াল থাকেনা। বদলে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দাঁত বিশিষ্ট একপ্রকার চোষক থাকে মুখে। যার সাহায্যে হাঙ্গরের মতো বড় বড় সামুদ্রিক মাছের শরীরে আটকে গিয়ে তাদের রক্ত চুষে খায় এই প্রাণীটি। উত্তর আমেরিকার মানুষদের কাছে এরা সাক্ষাৎ দানব। তারা এদের ভীষণ ভয় পান।

তবে এক দেশের কাছে যা ভয়ঙ্কর, অন্য দেশের কাছে তা অত্যন্ত সুস্বাদু পদ হয়েও উঠতে পারে। ইউরোপের মানুষজন আবার এই “সামুদ্রিক দানব” এর মাংস খেতে খুব পছন্দ করেন। এই পদ তৈরিতেও রয়েছে বিশেষত্ব। ইউরোপের মানুষজন ল্যামপ্রের রক্তেই তাদের রান্না করে সুস্বাদু পদ তৈরি করে থাকেন। পর্তুগালের মানুষজন প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত “ল্যামপ্রে উৎসব” পালন করেন।

সেই মধ্যযুগীয় সময়কাল থেকেই এই উৎসব পালিত হয় পর্তুগালে। জুলিয়াস সিজারের ব্যাঙ্কোয়েটের অন্যতম পছন্দের পদ ছিল ল্যামপ্রে। রক্ত দিয়ে ল্যামপ্রে রান্না নিয়ে বহু কথা প্রচলিত আছে। তার মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত কথাটি হলো, এই প্রাণীটি যেহেতু অন্য প্রাণীর রক্ত চুষে খায় তাই তার নিজের রক্ত দিয়েই সুস্বাদু পদ রান্না করা হয়। এমনই শাস্তি প্রাপ্য ল্যামপ্রের। আজও সেই প্রথা অবিচল রয়েছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত পর্তুগালের প্রতিটি রেস্তোরাঁয় “রক্তস্নাত ল্যামপ্রে” পদটি মেইন কোর্সে থাকবেই।