মুরগির মাংসের ক্রেতাদের রোজ মুরগি বানানো হচ্ছে এই বিশেষ পদ্ধতিতে

13
মুরগির মাংসের ক্রেতাদের রোজ মুরগি বানানো হচ্ছে এই বিশেষ পদ্ধতিতে

আপনি কি জানেন মুরগি কিনতে গিয়ে রোজদিন আপনাকে মুরগি বানানো হচ্ছে? মুরগির মাংসের ওজনের ঠকানো হচ্ছে আপনাকে। কিভাবে? সম্প্রতি সেই চিত্র ধরা পড়েছে কলকাতার নিউমার্কেটের একটি মাংসের বাজারে। সিরিঞ্জের সাহায্যে গোটা মুরগির মাংসের মধ্যে জল ভরে রেখে দিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। মুরগির মাংস কেটে নেওয়ার সময় সেই জল বেরিয়ে যায়। যার ফলে গ্রাহক আর এই কারচুপি ধরতে পারেন না। এইভাবে গ্রাহককে ১০০- ২০০ গ্রাম ওজনের মাংস ঠকাতে পারে বিক্রেতারা।

সম্প্রতি এক বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যমের স্টিং অপারেশনে’ ধরা পড়েছে সেই ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রতিটি মুরগিতে এই ভাবে গড়ে দুশো থেকে তিনশো মিলিলিটার মতো জল ভরে দেওয়া হচ্ছে৷ যার ফলে স্বভাবতই মাংসের ওজন বেড়ে যাচ্ছে। অথচ গ্রাহক এই কারচুপি ধরতে পারছেন না। সোজা কথায় বলতে গেলে বেশি দাম দিয়েও কম পরিমাণে মাংস কিনে নিয়ে প্রতিদিন বাড়ি ফিরছিলেন নিউ মার্কেটের গ্রাহকেরা।

এমন কান্ডে রীতিমতো হতচকিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উল্লেখ্য অসাধু বিক্রেতাদের এই কার্যকলাপে যে শুধুমাত্র আপনার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে এমনটা কিন্তু নয়। এর সঙ্গে আপনার শারীরিক ক্ষতি হতে পারে। কারণ এই কাজে যে জল ব্যবহার করা হচ্ছে তা কোন পরিস্রুত পানীয় নয়। একেবারে গঙ্গা থেকে আসা দূষিত জল সরাসরি মাংসের মধ্যে সিরিঞ্জ এর মারফত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই মাংস খেলে স্বভাবতই জলবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ বিভাগের অধ্যাপক গবেষক প্রশান্ত বিশ্বাস জানিয়েছেন এই জলে বেশকিছু ভারী পদার্থ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন ক্যাডমিয়াম সীসা আর্সেনিক এর মত দূষিত পদার্থ জলের মধ্যে থাকতে পারে বলে তিনি অনুমান করছেন। অতএব এবার থেকে মাংস কিনতে গেলে আরো বেশি সচেতন হোন।