পাবজি খেলার জন্য নিজের সারা জীবনের সঞ্চয় হারালেন রাজধানীর অবসরপ্রাপ্ত বিএসএনএল কর্মী

13
পাবজি খেলার জন্য নিজের সারা জীবনের সঞ্চয় হারালেন রাজধানীর অবসরপ্রাপ্ত বিএসএনএল কর্মী

চীন এবং ভারতের সীমান্তে উত্তপ্ত অবস্থার জেরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভারত বর্ষ থেকে টিকটক এবং পাবজি সহ একাধিক চিনা অ্যাপ ব্যান করে দেন। ভারতকে আত্মনির্ভর করে তোলার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি। টিকটকের মতোই পাবজি ব্যান হয়ে যাবার পর দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তরুণ প্রজন্ম।

শোনা যায়, পাবজি ব্যান হয়ে যাবার জন্য আত্মহত্যা করেন আইটি পড়ুয়া এক যুবক। আবার কোথাও মজার ছলে পাবজি অন্তষ্টি করেন কিছু যুবক। কিন্তু এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে এবার পাবজি খেলার জন্য নিজের সারা জীবনের সঞ্চয় হারালেন রাজধানীর অবসরপ্রাপ্ত বিএসএনএল কর্মী।

হঠাৎ করে ব্যাংকের তরফ থেকে একটি মেসেজ পেয়ে তিনি হতচকিত হয়ে পড়েন। প্রথমটা কিছু বুঝতে না পারলেও পরে জানতে পারেন যে, সেই মুহূর্তে তার ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে মাত্র দুশো পঁচাত্তর টাকা। কিন্তু তার ব্যাংকের একাউন্টে থাকার কথা প্রায় দুই লাখেরও বেশি টাকা। অর্থাৎ দুই লাখের বেশি টাকা তার অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুসারে, বিএসএনএল অবসরপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তি তিমারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এরপর সেই অভিযোগ সাইবারক্রাইম স্থানান্তরিত করার পর জানা যায় যে, আসল চোর লুকিয়ে রয়েছে তার বাড়িতেই। অভিযোগকারীর ১৫ বছরের নাতি দাদির একাউন্ট থেকে ২ লক্ষ ৮ হাজার টাকা বেআইনিভাবে তুলে নিয়ে পাপজির খাতে খরচ করে ফেলেছে।
এরপর সাইবার সেল তদন্ত চালিয়ে দেখে যে, ওই টাকার ট্রানস্ফার ওটিপি সিকিওর। সেই ওটিপি গিয়েছে অভিযোগকারীর ফোন নাম্বারে। যদিও অভিযোগকারীর ফোন নেই কোন ওটিপি সংক্রান্ত মেসেজ পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ দাদুর অনুপস্থিতিতে তার ফোন নিয়ে ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা তুলে তার নাতি। তারপর একের পর এক ওটিপি মেসেজ মুছে দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর জেরার মুখে পড়ে সেই কিশোর জানিয়েছে যে, বেশ কয়েক মাস ধরেই পাবজি খেলছে। অদূর ভবিষ্যতে গেমটা কেনার ইচ্ছা ছিল তার। সেই কারণে সেই কিশোর দাদুর ডেবিট কার্ড কাজে লাগায়। তবে শুধুমাত্র দিল্লির এই কিশোর নয়, ভারতে এমন প্রচুর ছেলে মেয়ে রয়েছে যারা পাপজির প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়ে এই গেমটি কেনার জন্য গোপনে অনেক টাকার লেনদেন করে ফেলেছে।