ডাইনোসর বিলুপ্তির সাম্প্রতিক গবেষণার কিছু রিপোর্ট তুলে ধরলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা

16
ডাইনোসর বিলুপ্তির সাম্প্রতিক গবেষণার কিছু রিপোর্ট তুলে ধরলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা

আজ থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল। তারপরের ৫০ কোটি বছর সময় লেগেছে উত্তপ্ত পৃথিবী ঠান্ডা হতে। এরপর বহু সময় পেরিয়ে গিয়েছে। পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব ঘটেছে। এককোশী প্রাণী থেকে বৃহৎ আকৃতির ডাইনোসরের উদ্ভব হয়েছে, যারা একসময় পৃথিবীর বুকে দাপিয়ে বেড়াতো। বলতে গেলে পৃথিবীতে রীতিমতো রাজত্ব করতো। বৈজ্ঞানিকদের মতে আজ থেকে প্রায় ৬.৬ কোটি বছর আগেও পৃথিবীতে ডাইনোসরের রাজত্ব ছিল।

বৈজ্ঞানিকদের অনুমান মহাজাগতিক বিশ্ব থেকে আগত গ্রহাণুর আঘাতেই এই বৃহদাকৃতির প্রাণীটি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। ডাইনোসরেরা কিভাবে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেল তা জানতে গবেষণা চালাচ্ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। সাম্প্রতিককালে তারা তাদের সেই গবেষণার রিপোর্টের কিছু অংশ তুলে ধরেছেন। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে মেক্সিকো উপত্যকায় অবস্থিত চিকসুলুব গহ্বরের তত্ত্ব।

এই রহস্যময় গহবরের উপর দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে তারা এখানকার মাটি, ধূলিকণা থেকে বহু মহাজাগতিক উপাদানের সন্ধান পেয়েছেন। গবেষকেরা জানিয়েছেন, চিকসুলুব ইম্পাক্টর নামের দানব গ্রহাণু আছড়ে পড়েছিল মেক্সিকো উপত্যকার উপর। যার ফলে মেক্সিকো পেনিনসুলার উপর অনেক বড় এবং গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়।

১১-৮১ কিলোমিটার বিস্তৃতি সম্পন্ন দানব গ্রহাণুটির আঘাতের কারণেই ডাইনোসরেরা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। এই গ্রহাণু যখন পৃথিবীতে প্রবেশ করে তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে এসে তাতে আগুন ধরে যায় এবং জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় ডাইনোসরের মতো বৃহৎ আকৃতির জীব পৃথিবীতে টিকে থাকা সম্ভব ছিল না। মহাজাগতিক গ্রহাণুর আক্রমণের মুখে পড়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে এই জীব।