সম্প্রতি আফ্রিকার জঙ্গলে মিলল দুই বামন জিরাফ

7
সম্প্রতি আফ্রিকার জঙ্গলে মিলল দুই বামন জিরাফ

চার্লস ডারউইনের “প্রাকৃতিক নির্বাচন বাদ” অর্থাৎ “ন্যাচারাল সিলেকশন” তত্ত্ব বিশ্ববাসীর সামনে “অভিযোজন”কে এক নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরেছিল। সেখানে ডারউইন খুব সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে ছিলেন পুরাকালে যে সকল জিরাফ নিজেদের গলা উঁচিয়ে উঁচু গাছের ডাল থেকে নিজেদের খাদ্য সংগ্রহ করতে পেরেছে, তারাই এই জগতে টিকে গিয়েছে। বাকি যারা “বামন” হয়েই থেকে গিয়েছে, তারা পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে!

সেই প্রাচীন কাল থেকেই সংঘর্ষ করতে করতে জিরাফের যে প্রজাতি এখনো পৃথিবীতে টিকে রয়েছে তাদের উচ্চতা সাধারণত ১৬ ফুট বা তার থেকে কিছু কম বেশি হয়। ডারউইনের তত্ত্ব মেনেই এর থেকে কম উচ্চতার জিরাফ প্রকৃতিতে “প্রায়” বিরল। তবে আফ্রিকার জাতীয় উদ্যানে সম্প্রতি দুটি এমন প্রাপ্ত বয়স্ক জিরাফ পাওয়া গিয়েছে যারা ডারউইনের তত্ত্বকে খারিজ করে দিয়েছে। কারণ তারা “বামন”, ডোয়ার্ফিজমের (বামনত্ব) শিকার!

গিমলি এবং নাইজেল, একজন উগান্ডা এবং আরেকজন নামিবিয়ার বাসিন্দা। এদের দুজনের উচ্চতা যথাক্রমে ৯.৪ ফুট এবং ৮.৫ ফুট। জিরাফ কনজারভেশন ফাউন্ডেশন-এর একজন গবেষক এবং তার টিম এই দুই বামন জিরাফকে খুঁজে পেয়েছেন। এরপর তাদের নিয়েই গবেষকরা তাদের গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যান। সেই গবেষণার ফলাফলে জানতে পারা যায়, এটি আসলে জিরাফের জিনগত সমস্যা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে উগান্ডার একটি জাতীয় উদ্যানে গিমলিকে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল। নাইজেলকেও ২০২০ সালে শেষবারের মতো নামিবিয়াতে দেখা গিয়েছিল। গবেষকরা জানিয়েছেন, গিমলি ও নাইজেল দু’জনেই পুরুষ জিরাফ। তাদের এত কম উচ্চতা কার্যত প্রজননের কাজে ব্যাঘাত ঘটাবে। কারণ একটি স্ত্রী জিরাফের নুন্যতম উচ্চতা ১৪ ফুটের কাছাকাছি হয়। অতএব সেক্ষেত্রে তাদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে।