সম্প্রতি ম্যানগ্রোভ অরণ্যকে মানুষের লোভের হাত থেকে বাঁচাতে উদ্যোগী হলো বাংলাদেশ সরকার

6
সম্প্রতি ম্যানগ্রোভ অরণ্যকে মানুষের লোভের হাত থেকে বাঁচাতে উদ্যোগী হলো বাংলাদেশ সরকার

এই বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন। ভারত-বাংলাদেশের ভূখণ্ডের একাংশ নিয়ে গঠিত এই বৃহত্তম অরণ্য প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। সুন্দরবনের গহীন অরণ্য থেকে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মাছ, মধু, মোম, ঔষধি গাছ, চিংড়ি, কাঁকড়াসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আহরণ করে জীবন ধারন করে আসছেন দুই বাংলার মানুষ। তবে মানুষের অত্যধিক লোভের শিকার হচ্ছে এই বিশাল ম্যানগ্রোভ অরণ্য। মানুষের দাপটে অস্তিত্ব রক্ষা তাই যেন সুন্দরবনের কাছে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমতাবস্থায় সুন্দরবনকে রক্ষা করতে উদ্যোগী হলো বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের শেখ হাসিনার সরকার সম্প্রতি ম্যানগ্রোভ অরণ্যকে মানুষের লোভের হাত থেকে বাঁচাতে প্রায় ১৫৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের অধীনে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার মোট ৩৯টি উপজেলা ঘিরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার সরকারের বক্তব্য অনুসারে, এই প্রকল্প থেকে সেদেশের অন্তত ৩০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হতে চলেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিশ্বের সবথেকে বড় ম্যানগ্রোভ অরণ্যই বিশ্বের সবথেকে অরক্ষিত অরণ্য। এই অরণ্য আসলে একটি অরণ্য ভান্ডার, যে ভান্ডার থেকে নিত্যদিনই অনিয়ন্ত্রিতভাবে, প্রচুর পরিমাণে সম্পদ আহরণ করা হচ্ছে। এটা কার্যত ওই অরণ্য ভান্ডারের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে।

এই অরণ্য ভান্ডারের ভারসাম্য রক্ষা করতেই তাই বাংলাদেশের তরফ থেকে “সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্প” গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় জলবায়ুর পরিবর্তনে সুন্দরবনের মাটি এবং জলের লবণাক্ততা পরীক্ষা করা হবে। বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের তরফ থেকে এই বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্প অনুসারে যেমন একদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বনজ সম্পদের সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, তেমনই অরন্যের ওপর জলবায়ুগত পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করাও সম্ভব হবে।