সম্প্রতি উন্নত প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনলেন একদল গবেষক

9
সম্প্রতি উন্নত প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনলেন একদল গবেষক

মানুষের উপদ্রবে পৃথিবী থেকে ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে বহু প্রজাতির বন্যপ্রাণী। বহু প্রাণী এখনো বিলুপ্তির পথেই এগোচ্ছে।আইইউসিএন-এর তরফ থেকে প্রকাশিত বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকা অনুযায়ী সংখ্যাটা ৪১,৪১৫ টিতে গিয়ে ঠেকেছে। ফলে, মানুষের আগ্রাসী মনোভাবের জেরে অদূর ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে চলেছে যেখানে বন্যপ্রাণের হয়তো কোনো চিহ্নই থাকবে না। আর বাস্তুতন্ত্র মতে, বন্যপ্রাণ নষ্ট হলে মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাও অসম্ভব হয়ে পড়বে।

তবে আশার খবর, উন্নত প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এখন বেশ কিছু বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে। ডিএনএ ক্লোনিং পদ্ধতি অনুসরণ করেই এই অসম্ভব সম্ভব করে ফেলেছেন গবেষকেরা। সম্প্রতি, আমেরিকার ‘সান দিয়েগো চিড়িয়াখানা’তে ক্লোনিং পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে বিলুপ্তপ্রায় বন্য ঘোড়ার “Przewalski” প্রজাতির এক শাবকের জন্ম হলো।

গত ৬ই আগস্ট আমেরিকার টেক্সাস ভেটেরিনারির তত্ত্বাবধানে সান দিয়েগো চিড়িয়াখানায় সারোগেট মা ঘোড়ার গর্ভ থেকে জন্ম নিল “Przewalski” প্রজাতির শেষ ঘোড়া শাবক কার্ট। একসময় এশিয়া এবং ইউরোপের বনে জঙ্গলে রাজত্ব করত “Przewalski” প্রজাতির বন্য ঘোড়ার প্রজাতিটি। এরপর মানুষের উপর উপদ্রব বাড়তে শুরু করে। বন জঙ্গল কেটে ঘরবাড়ি এবং কল কারখানা তৈরি হতে শুরু করলে, বন্য ঘোড়ার প্রজাতিটির অস্তিত্ব রক্ষা করা রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

বর্তমানে বেশিরভাগ বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর ক্ষেত্রেই এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটছে। এর ফলে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে বহু প্রাণী। বর্তমানে “Przewalski” প্রজাতির বন্য ঘোড়াগুলিকে একমাত্র চিড়িয়াখানাতেই দেখতে পাওয়া যায়। চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, বর্তমানে বেশ সুস্থ রয়েছে বাচ্চাটি। হাঁটাচলা এবং ছোটাছুটি করতে পারছে সে। পূর্ণবয়স্ক হয়ে গেলে কার্ট আরো সন্তানের জন্ম দিয়ে নিজের প্রজাতির অস্তিত্ব পৃথিবীর বুকে টিকিয়ে রাখতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।