মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কি ব্যর্থ হল আর বি আই? জানুন

14
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কি ব্যর্থ হল আর বি আই? জানুন

গত বুধবার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গভর্নর শক্তিকান্ত দাস মুদ্রানীতি কমিটির সাথে বৈঠক সেড়েছেন। আর সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সর্বসম্মতিক্রমে রেপো রেট বৃদ্ধি করার। আগের রেপো রেটের তুলনায় ০.৪০% বৃদ্ধি করেছে। আগে ছিল ৪% কিন্তু সেটাই এখন বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪.৪০%। রেপো রেট হল যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলোকে আর বি আই ঋণ দিয়ে থাকে, সেটাকেই এবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাহলে কি আর বি আই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে? এমনটাই যেন বলছে সকলে। কিন্তু এই কথা বলার কারণ কি? আর বি আই সর্বদা মুদ্রাস্ফীতি ৪% রাখার চেষ্টা করে, কিন্তু সেটা কখনও কখনও ২% বৃদ্ধি পায় আবার কোনো সম্য সেটা ২% কমে যায়। গত ২ বছর থেকেই এই মুদ্রাস্ফীতি হয়ে চলেছে। শেষের ২ বছর দেখা গেছে মুদ্রাস্ফীতি ৬% এর ওপরে চলে গেছে, আর সেটা লাগাতার হয়ে চলেছে।

মুদ্রাস্ফীতি ওঠানামা করছে তখন ঠিক আছে, কিন্তু সেটা যদি ক্রমশ বৃদ্ধির দিকেই এগিয়ে যায় তাহলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল। যেটা এবার আর বি আই এর ক্ষেত্রে হয়েছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশ ছোঁয়া, যার কারণেই এখন দেশ জুড়ে সব কিছুর দাম ঊর্ধমুখী। খাদ্য সামগ্রীর ঘাটতি। মোট কথা চাহিদা থাকলেও কোনভাবেই জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর বি আই তখনই রেপো রেট কমিয়ে দেয় যখন কিনা, দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। কিন্তু এবার সেই পথ অবলম্বন করেও কোনো কাজ হয়নি। তাই এসেছে আর্থিক মন্দা। সেই কারণেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে লক্ষ লক্ষ মধ্যবিত্ত মানুষের উপার্জন।

তবে শুধু অপোরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি হয়েছে বলেই যে দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে সেটা কিন্তু কারণ নয়। এর সাথে আছে আরও কিছু কারণ। কারণ তেলের দাম প্রতি বছর বাড়তেই থাকে কিছু না কিছু। তাছাড়া ইউক্রনের যুদ্ধের কারণে এই তেলের দাম বৃদ্ধি, সেটাই শুধু কারণ নয়। কারণ যখন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতি নির্ধারক কমিটি ফেব্রুয়ারিতে বৈঠক করেছিল, তখনই কিন্তু তারা মুদ্রাস্ফীতির আভাস পেয়েছিল। আসলে মুদ্রাস্ফীতিও নতুন নয়, দেশে এটা মাঝে মধ্যেই দেখা যায়। আসল কারণ মুদ্রা নীতিতে গলদ, প্রায় মনে করা হয় আর বি আই সুদের হাড় বাড়াবে কিংবা কমাবে। এতেই অর্থনীতির দ্রুত সাড়া পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে এটা একেবারেই হয় না। এটা ফল দেয় মাঝে মাঝে, তবে আর্থিক নীতি কমিটির বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেও তেমন ভাবে মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে নি।