আফগানিস্তানে হিন্দু মন্দির রক্ষার্থে আজীবন শত্রু পুরীর মধ্যেই থেকে যাওয়ার শপথ গ্রহণ করেছেন রাজারাম

16
আফগানিস্তানে হিন্দু মন্দির রক্ষার্থে আজীবন শত্রু পুরীর মধ্যেই থেকে যাওয়ার শপথ গ্রহণ করেছেন রাজারাম

আফগানিস্তান-পাকিস্তান-বাংলাদেশ, একসময় ছিল ভারতেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু কালক্রমে মৌলবাদী মনোভাবাপন্ন মানুষদের পৃথক রাষ্ট্র গঠনের চাহিদা থেকে বারবার টুকরো টুকরো হয়েছে হিন্দুস্থান। কিন্তু সেই পৃথক রাষ্ট্রগুলিতে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের থাকাটা নিরাপদ নয়। প্রতিমুহূর্তে থাকে জঙ্গি হামলার ভয়। দেশভাগের সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের যতজন মানুষ আফগানিস্থানে থেকে গিয়েছিলেন একে একে সবাই ফিরেছেন ভারতে।

হিসেব বলছে, একটা সময় প্রায় ৮০ হাজার হিন্দু এবং শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করতেন আফগানিস্থানে। কিন্তু, ইসলামিক জঙ্গিদের ভয়ে সবাই ফিরে এসেছেন ভারতে। ব্যতিক্রম, একজন। তিনি রাজারাম। জঙ্গিদের হুমকি, হামলার ভয় মাথায় করে নিয়ে আফগানিস্তানে টিকে থাকার জন্য একাই লড়ছেন রাজারাম। তার পরিবারের সকল সদস্যকে তিনি অবশ্য নিরাপদ আশ্রয়, ভারতবর্ষে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু নিজে ফিরে আসেননি।

কারণ, আফগানিস্তানে অবস্থিত একটি হিন্দু মন্দির। যে মন্দিরে একমাত্র রাজারাম ছাড়া প্রদীপ জ্বালানোর মতো কেউ নেই। সেই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্যেই আজীবন শত্রু পুরীর মধ্যেই থেকে যাওয়ার শপথ গ্রহণ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, ৯৮০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত আফগানিস্থান ছিল হিন্দু রাষ্ট্র। ৯৮০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে গজনী আক্রমন করে বসলেন সবুক্তগীন। গজনির তত্‍কালীন হিন্দু রাজা জয় পাল শাহিকে পরাহত করে আফগানিস্তানের দখল নিলেন তিনি।

তারপর থেকে সে রাষ্ট্রে মুসলিম সম্রাটদের জয়যাত্রা শুরু। তবে সেই মুসলিম সম্রাটদের রাজত্বকালেও সেখানে টিকে ছিলেন হিন্দু প্রজারা। কিন্তু বিগত দশ বছরে সেই চালচিত্র বদলে গিয়েছে। আফগানিস্তানে বসবাসকারী সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিরা। যারা বেঁচেছেন তারা নিজেদের সমস্ত সম্পত্তি ছেড়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতবর্ষে পালিয়ে এসে প্রাণ বাঁচিয়েছেন। কিন্তু মৃত্যু ভয় টলাতে পারেনি রাজা রামকে।