সংসারের অর্থাভাব দূর করতে বাড়ির এই স্থানে রাখুন একটি জলপূর্ণ মাটির কলস! দেখুন এর উপকারিতা

43
সংসারের অর্থাভাব দূর করতে বাড়ির এই স্থানে রাখুন একটি জলপূর্ণ মাটির কলস! দেখুন এর উপকারিতা

বাস্তু তন্ত্র মতে আমাদের যে দশটি দিক থাকে তার প্রত্যেকটি দিকে আলাদা আলাদা দেবতা থাকে। এইমতে গৃহের আবাসিকদের জীবন-কর্ম অনুযায়ী শুভ অশুভ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এই প্রসঙ্গে বাস্তুবিদ আচার্য ইন্দু প্রকাশ জানিয়েছেন যে, বাড়ির উত্তর দিকে যদি একটি জলপূর্ণ মাটির কলস রাখা যায় তাহলে কোনদিন বাড়িতে অর্থাভাব আসেনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

বাস্তু তন্ত্রের পাশাপাশি সামগ্রিক হিন্দু শাস্ত্র মতে, উত্তর দিকের অধিকারী হলেন কুবের। ব্রহ্মার মানসপুত্র ঋষি পুলস্ত্য, পুলস্ত্যের পুত্র ঋষি বিশ্রবা এবং তাঁরই পুত্র কুবের জগতের অতুল ঐশ্বর্যের অধীশ্বর। তিনি যক্ষের অধিপতি। এই যক্ষ দের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে উত্তর দিক, মাটির কলস এবং জলের সম্পর্ক।

পুরান মতে, আদিকালে ব্রম্ভা যখন জল সৃষ্টি করেন তখন তিনি আরও দুই মানুষের মতো দেখতে জীব কুল বানিয়ে ছিলেন। জন্মের পর তিনি তাদের জল দেখিয়ে জানতে চান যে, একে তারা কিভাবে ব্যবহার করবে। তাদের মধ্যেই একশ্রেণী উত্তর দেয় যে, তারা জলকে পুজো করবে। এরাই পরবর্তীকালে পরিচিত হয় যক্ষ দেবতাদের নামে। এরা জল কে পুজো করে বলে বেশিরভাগ সময় জলের ধারে কাছে থাকার চেষ্টা করে।

অন্যদিকে বিশ্রবার দ্বিতীয় পুত্র রাবণ জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা কুবেরকে যুদ্ধে পরাজিত করলে তিনি ঘুরতে ঘুরতে এসে পৌঁছেছিলেন উত্তর দিকে হিমালয় পর্বতে। যেখানে কুবের হর পার্বতী কে একসাথে বিহার করতে দেখেন। পার্বতীর রূপ দেখে তার মনে কাম ভাব দেখা দিলে তিনি এক চোখের কোন দিয়ে দেবীকে লুব্ধ চোখে দেখেছিলেন। এর ফলে দেবী কুবেরের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে যান। তার চোখ অন্ধ করে দেন। যদিও সঙ্গে সঙ্গে কুবের ক্ষমা চেয়ে নেবার ফলে তার অন্ধ চোখ সোনার করে দেন। তাকে জগতের যাবতীয় সম্পদ এবং সেইসঙ্গে উত্তর দিকের অধিপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে দেন।

প্রাচীনকালে একটি মাটির কলসি সম্পদে পরিপূর্ণ সৌভাগ্য অক্ষয় হওয়ার লক্ষে সেটি যক্ষ দেবতা কে উৎসর্গ করা হতো। তাই বলা হয় যে বাড়ির উত্তর দিকের যদি একটি মাটির কলস জলপূর্ণ করে রাখা যায় তাহলে, কুবের সন্তুষ্ট হন এবং সেই বাড়ির গৃহস্থ কখনো অর্থের অভাব হয় না।