পাকিস্তানে যত ধর্মান্তরিতকরণের ঘটনা ঘটে তার প্রায় ৫৩ শতাংশই ঘটেছে পাঞ্জাবে! উদাসীন প্রশাসন

9
পাকিস্তানে যত ধর্মান্তরিতকরণের ঘটনা ঘটে তার প্রায় ৫৩ শতাংশই ঘটেছে পাঞ্জাবে! উদাসীন প্রশাসন

মৌলবাদী মনোভাবের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে বিশ্বের যে রাষ্ট্র, তার নাম পাকিস্তান। বিগত সত্তর বছরের ইতিহাসে সংখ্যালঘু নির্যাতন, জোর করে ধর্মান্তরিতকরণের বহু অভিযোগ উঠেছে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে। তবে সম্প্রতি যে রিপোর্ট প্রকাশিত হলো তাতে পাঞ্জাব মুলুকের পরিস্থিতি নিয়ে স্বভাবতই উদ্বেগ বাড়ছে। একটি সমীক্ষার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সারা পাকিস্তানে যত ধর্মান্তরিতকরণের ঘটনা ঘটে তার প্রায় ৫৩ শতাংশই ঘটেছে পাঞ্জাবে!

Center for Social Justice এর তরফ থেকে সম্প্রতি ‘ফোর্সড কনভারসন কমপ্লেন্টস অ্যান্ড রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল আলোচনা সভার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই সভায় অংশগ্রহণকারীরা এক ভয়াবহ তথ্য বিশ্বের সমক্ষে এনেছেন। তাদের দাবি, পাঞ্জাব প্রদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলা বিশেষ করে নাবালিকাদের টার্গেট করছে ইসলামিক সংগঠনগুলি।

প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ১৯৭৩ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত ধারাটিকে রীতিমতো লংঘন করেই পাঞ্জাব মুলুকে জোর করে ধর্মান্তরিতকরণ প্রক্রিয়া চলছে। ২০১৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যেই নাকি অন্তত ১৬২টি ক্ষেত্রে জোর করে ধর্মান্তরিতকরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে সভায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্যদের দাবি, সংখ্যাটা আরো বেশি।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বিপক্ষে এমন রিপোর্ট এই প্রথম নয়। এর আগে গত জুন মাসে ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিকমানের পত্রিকা “দ্য স্পেক্টাটর” এও একই দাবি তোলা হয়েছিল। পত্রিকার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তানি নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় প্রসঙ্গে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। ভিন ধর্মাবলম্বীদের উপর সেখানে অনেক অত্যাচার চালানো হয়। বিশেষত হিন্দু এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মহিলাদের জোর করে ধর্মান্তরিতকরণের ঘটনা সেখানে আকছার ঘটছে। কিন্তু পাকিস্তানের প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে না।