বিশ্বের সেরা ১০ সুন্দরী মহিলার মধ্যে নিজের স্থান করে নিয়েছিলেন কোচবিহারের রাজবংশী রাজকুমারী গায়ত্রী দেবী

44
বিশ্বের সেরা ১০ সুন্দরী মহিলার মধ্যে নিজের স্থান করে নিয়েছিলেন কোচবিহারের রাজবংশী রাজকুমারী গায়ত্রী দেবী

আজ থেকে বহু যুগ আগে থেকে ভারতীয় নারীদের সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে যেতেন বহিরাগত পুরুষ। দ্রপতী হোক অথবা পদ্মাবতী, যেকোনো রাজকুমারীর অসাধারণ সৌন্দর্যের কথা আমরা যুগ যুগ ধরে শুনে এসেছি। কবিতা অথবা কাব্যগ্রন্থ তেও তাদের সৌন্দর্যের কথা আমরা শুনেছি। এমনই এক অসাধারণ সুন্দরী নারী ছিলেন কোচবিহারের রাজবংশী রাজকুমারী গায়ত্রী দেবী।

জন্মসূত্রে তিনি কোচবিহার রাজবংশের রাজকুমারী হলেও তার জন্ম ভারত বর্ষ থেকে অনেক দূরে লন্ডন শহরে। ১৯১৯ সালের ২৩ মে, তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার মা ছিলেন বরদার রাজকুমারী। অসামান্য সুন্দরী রাজকুমারী গায়ত্রী দেবী তার সৌন্দর্য পেয়েছিলেন তার মায়ের থেকে। ছোটবেলায় শান্তিনিকেতন থেকে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্নেহধন্য হয়ে উঠার সৌভাগ্য হয়েছিল তার। ভারতবর্ষের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সহপাঠী ছিলেন তিনি। এর পর উচ্চশিক্ষা লাভ করার জন্য তিনি সুইজারল্যান্ডে চলে যান।

গায়ত্রী দেবী তাঁর সমকালীন সমাজের অন্যান্য মহিলাদের থেকে অনেকটাই আলাদা ছিলেন। তার পোশাক-আশাক স্বভাব-চরিত্র অনেকটাই আলাদা ছিল সকলের থেকে। রাজনীতি ও প্রবল জ্ঞান ছিল তার পরবর্তীকালে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। তৎকালীন এই সুন্দরী রমণীর রূপে মুগ্ধ ছিল সারা বিশ্ব।

তার রুপের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল জয়পুরের মহারাজা দ্বিতীয় শাহী মানসিং বাহাদুরের গানে। ২ রমনি থাকা সত্ত্বেও তিনি গায়ত্রী দেবী কে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অবশেষে ১৯৪০ সালের ৯ মে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি বিয়ে করেন জয়পুরের মহারাজ কে। ক্রমেই তিনি হয়ে ওঠেন জয়পুরের রাজমাতা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে গেলেও তিনি কখনো নিজেকে চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখেন নি। রাজবংশের অন্যান্য মহিলাদের মত কখনোই ইন্ট্রোভার্ট ছিলেন না তিনি। ঊনবিংশ শতাব্দীতে রাজপরিবারের মহিলা হওয়া সত্ত্বেও তিনি খুবই স্বাধীনচেতা ছিলেন। ঘোড়ায় চড়া থেকে আরম্ভ করে গাড়ি চালানো এমনকি পশু শিকার ও করতেন তিনি।

তার সাজপোশাক অন্যান্য মহিলাদের তুলনায় অনেক স্বতন্ত্র ছিল। গায়ত্রী দেবী নিজেকে সযত্ন সাজিয়ে তুলতে হালকা প্যাস্টেল সেটের শিফন শাড়ি এবং এক ছড়া মুক্তোর মালা দিয়ে। বাইরে বেরোলে শুধু পড়তেন সানগ্লাস। কখনোই তিনি সমকালীন মহিলাদের অনুসরণ করতেন না। ফ্যাশন সম্পর্কে তার সচেতনতা একেবারেই অন্যরকম ছিল।

পড়াশোনাতেও দারুন ছিলেন তিনি। জয়পুরে অনেক স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য সুখ্যাতি কুড়িয়েছিলেন তিনি। তৎকালীন ম্যাগাজিনে বিশ্বের সেরা ১০ সুন্দরী মহিলার মধ্যে নিজের স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি। এমন কি গিনিস বুক অব রেকর্ডে সবথেকে বেশি ব্যবধানে ভোট পেয়ে জয়ী হিসেবে নামকরণ করেছিলেন তিনি। তাঁর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিল বলিউড।

স্বয়ং বিগবি অমিতাভ বচ্চন জয়পুরের রাজমাতার সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ ছিলেন। একটি ব্লগে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে, সিল্কের পোশাক পরেই যখন গায়ত্রী দেবী পলোগ্রাউন্ডে খেলতে আসেন তখন তিনি মুগ্ধ হয়ে তাকে দেখতেন। খেলা দেখার জন্য নয় শুধুমাত্র গায়ত্রী দেবীর সৌন্দর্যের টানে তিনি আসছেন পলোগ্রাউন্ড। শুধুমাত্র অমিতাভ বচ্চন নয়, শাহরুখ খান ও মুগ্ধ ছিলেন রাজমাতার সৌন্দর্য তে।

মহিলাদের শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতির জন্য তিনি ১৯৪৩ সালে গার্লস পাবলিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই মহিয়সী নারী পরলোকগমন করেন ২০০৯ সালের ২৯ মে। গত ২৩ মে ছিল তার ১০২ তম জন্মদিন। প্রতি বছর এই দিন তাঁকে স্মরণ করেন জয়পুর এবং কোচবিহারের মানুষেরা।