অকাল মৃত্যু অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লার! কেন বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত

36
অকাল মৃত্যু অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লার! কেন বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত

বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু হয়েছে জনপ্রিয় অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লার। মূলত হার্ট অ্যাটাকই তাঁর মৃত্যুর কারণ। সিদ্ধার্থের অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বলিউড। বর্তমানে অবশ্য হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে আগের থেকে। কমবয়সীদের ক্ষেত্রে এর হার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনোদন জগতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কম বয়সে মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের। পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ(৪৯) থেকে শুরু করে মন্দিরা বেদীর স্বামী রাজ কৌশল (৪৯)- সবারই মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। এমনকি মাত্র ৩৭ বছর বয়সে আবির গোস্বামী ও ৩১ বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছে আরতি আগরওয়ালের।

আগেকার দিনে সাধারণত বয়স বাড়লেই হার্ট অ্যাটাকে ঝুঁকিও বাড়ত। কিন্তু আজকাল কার দিনে বয়স্কদের পাশাপাশি কম বয়সিদের মধ্যেও বেড়েছে হৃদরোগের সম্ভাবনা। ভারতে ৫০ বছরের মধ্যে যাঁদের বয়স তাঁদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়েছে। ২০০৫ সালে Vascular Health Journal-এ গবেষক মীনাক্ষী শর্মা ও নির্মল কুমার গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি রিপোর্ট বেরিয়েছিল। তাতে বলা হয়, ৩৫ থেকে ৪৫ এর মধ্যে যাঁদের বয়স তাঁদের মধ্যে করোনারি আর্টারি ডিজিজ-এর প্রবণতা বাড়ছে। যার জেরে স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ বছর আগেই তাঁদের মৃত্যু হচ্ছে।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারে আগে থেকে যদি কারও হৃদরোগের সমস্যা থাকে তাহলে ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া এই অসুখের অন্যতম বড় একটা কারণ হল অনিয়মিত জীবনযাপন। বহু ভারতীয় পরিবারের মধ্যেই এমন কিছু শারীরিক সমস্যা থাকে যা পরবর্তীতে হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পেটে মেদ জমা, হাই ফাস্টিং ব্লাড সুগার অথবা ডায়াবেটিস হলে, অথবা শরীরে ট্রাইগ্লিসারিনের মাত্রা বেড়ে গেলে এবং গুড কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে থাকলে হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

বহু ভারতীয় কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভোগেন। কারণ তাঁদের মধ্যে গুড কোলেস্টেরল বা হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন গ্রহণ করার প্রবণতা কম থাকে। লিপিড প্রোপোরশনে হঠাৎ পরিবর্তন থেকেও ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া অনিয়মিত লাইফস্টাইল, অতিরিক্ত পরিমাণে কার্বহাইড্রেট যুক্ত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অধিক পরিমাণে এনার্জি ড্রিঙ্ক, অ্যালকোহল পান করা এবং তামাক নিলেও বাড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি। এছাড়া ঠিক মতো ঘুম না হলেও ঝুঁকি বাড়ে।

সমস্যা যেমন আছে তার সমাধানও নিশ্চয়ই থাকবে। চিকিৎসকরা বলছেন, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সিদের প্রতি পাঁচ বছর অন্তর লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করা উচিত। বয়স ৪০ পেরোলেই প্রতি বছরই একবার এই টেস্ট করানো উচিত। এছাড়া সুস্থ জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়া বাধ্যতামূলক। সঠিক সময়ে ঘুম, সঠিক ডায়েট মেনে চলা, শরীরচর্চা করা এগুলি মেনে চলা প্রয়োজন। সাথে সাথে হার্টের অবস্থা কেমন আছে তা-ও পরীক্ষা করে দেখা উচিত।

চিকিৎসকরা আরও বলেছেন প্রতিদিনের ডায়েটে যাতে চিনি ও নুনের পরিমাণ এবং বিভিন্ন রকমের ফ্যাটের পরিমাণ ঠিক থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। কারণ অতিরিক্ত নুন বাড়ায় হাইপারটেনশন যা স্ট্রেস বাড়ায়, আর অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি ও ফ্যাট ওবেসিটি বাড়ায় এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ায়। এর ফলে হার্ট‌ অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ে।