বার্ড ফ্লু আতঙ্কে চাহিদা কমছে মুরগির মাংসের, বিরাট ক্ষতির মুখে পোলট্রি শিল্প

6
বার্ড ফ্লু আতঙ্কে চাহিদা কমছে মুরগির মাংসের, বিরাট ক্ষতির মুখে পোলট্রি শিল্প

করোনা আবহের মধ্যে দানা বেঁধেছে আরেক ভাইরাস বার্ড ফ্লু। এ বার্ড ফ্লুর কারণেই মুরগি ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। গত সপ্তাহে এই যে মুরগির মাংসের দাম কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছিল। সেটাই এখন ১৫০ তে এসে নেমেছে। এমনিতেই জানুয়ারি মাস পিকনিকের মরশুম চারদিকে। স্বাভাবিকভাবেই এই সময়ে মুরগির মাংসের দাম দারুন চাহিদার মধ্যে থাকে। কিন্তু হঠাৎ করেই বার্ড-ফ্লু ফিরে আসায় মুরগির মাংস থেকে অনেকেই বিশ্বাস হারাচ্ছেন। ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে মুরগির দোকানের লাইন। এমনিতেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়ে দিয়েছে কাঁচা মাংস থেকে দূরে থাকতে। তাই কতকটা বাধ্য হয়েই মুরগি মাংস থেকে অন্য মাংসের দিকে ঝোঁক বাড়াচ্ছে সাধারন মানুষ। তবে এর মধ্যে রয়েছে কিছু ব্যতিক্রম, যারা কম দামে মুরগির মাংস পেয়ে চওড়া হাসি হাসছে।

স্বাভাবিকভাবে দেখা যায় প্রতি সপ্তাহে আমাদের রাজ্যের মুরগির মাংসের চাহিদা 2 কোটি 40 লক্ষ কেজি। যার মধ্যে আমাদের রাজ্যে উৎপাদনের পরিমাণ 1 কোটি 80 থেকে 90 লক্ষ কেজি। আর বাকিটা আসে বাইরের রাজ্য থেকে। ইতিমধ্যেই বাইরের রাজ্যগুলোতে বার্ডফ্লুর দারুণ প্রভাব পড়েছে। যার কারণে বিভিন্ন রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা জারি করেছে। বঙ্গে তেমন একটা প্রভাব না পড়লেও মাংসের দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।

এমনিতেই আগের বছর থেকেই অনেক মানুষ করোনাভাইরাস এর কারণে মুরগির মাংস এড়িয়ে চলছে, যার কারণে 300 কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে মুরগির মাংসে। ফের এই বার্ড ফ্লু আতঙ্কে ক্ষতির মুখে পোলট্রি শিল্প। এই নিয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশন এর সম্পাদক মদন মোহন মাইতি জানিয়েছেন, আসলে এটা নতুন কিছুই নয় প্রতিবার শীতের দিকেই এই বার্ড ফ্লু হানা দেয় যার ফলে পোল্ট্রিশিল্পের বিশাল ক্ষতি হয়। লক্ষাধিক মানুষের কাজের সাথে যুক্ত, যাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয় এই বার্ড ফ্লুর কারণে। এখনো পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে বার্ডফ্লুর কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি, কিন্তু মানুষ অযথা ভয়ের কারণ এই পোল্ট্রির মাংস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।