গঙ্গার জলোচ্ছ্বাসের তলায় ডুবে যেতে চলেছে কলকাতার একাংশ

29
গঙ্গার জলোচ্ছ্বাসের তলায় ডুবে যেতে চলেছে কলকাতার একাংশ

অল্পবিস্তর বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে শহর কলকাতা। তার ওপর যদি ঘূর্ণি ঝড়ের দাপট হয় তাহলে স্বভাবতই আশঙ্কা আরো বেড়ে যায়। তবে একা ঘূর্ণিঝড়ে রক্ষে নেই, তার উপর আবার তার দোসর হিসেবে হাজির পূর্ণিমার দরুন ভরা কোটাল। ভরা কোটালে নদীর জল স্তর আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই আগেভাগেই শহর কলকাতায় বন্যার সতর্কবার্তা জারি করেছেন।

গঙ্গার জল স্তর বৃদ্ধি পাওয়াতে গতকাল হাওড়া ব্রিজের এক নম্বর জেটি জলের তলায় সম্পূর্ণ ডুবে গিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার আগেই গঙ্গার জল স্তর বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তিত প্রশাসন। এবার ঘূর্ণিঝড় হলে গঙ্গার জলস্তর আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই সতর্ক করে বলেছেন, গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি ভরা কোটাল এবং তার উপর আবার চন্দ্রগ্রহণের ফলে গঙ্গার জল স্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা, কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় গঙ্গা থেকে জল ঢুকে পড়বে। গঙ্গার জলের তলায় ডুবে যেতে চলেছে কলকাতার একাংশ। তবে তিনি এও জানিয়েছেন যে, এই সমস্যার মোকাবিলা করার জন্য আলাদা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।‌ আজ বেলা বারোটার সময় ওড়িশার দামরা পোর্টের কাছে স্থলভূমিতে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। ঘূর্ণিঝড়ের দরুন প্রবল জলোচ্ছাসে পাশাপাশি ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তাও রয়েছে।

কলকাতা পুরসভার নিকাশিবিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য তারক সিং, গঙ্গার জলের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে যাতে স্থলভাগে জল না ঢুকে পড়তে পারে তার জন্য লকগেটগুলিকে পরিদর্শন করেছেন। তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের জল বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য বুধবার গঙ্গায় সকাল সাড়ে দশটার পর থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত লকগেটগুলিকে বন্ধ রাখা হবে।