পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর গলায় মালা পরানোর শাস্তি আজও ভোগ করছেন সাওতালি বুধনি

21
পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর গলায় মালা পরানোর শাস্তি আজও ভোগ করছেন সাওতালি বুধনি

সময়টা ১৯৫৯ সাল। দামোদর নদীর উপর পাঞ্চেত বাঁধ উদ্বোধনের উপস্থিত হয়েছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। সেখানে সাঁওতালদের একটি মেয়ে মালা পরিয়ে তাকে বরণ করে নেন। শুধুমাত্র এই অপরাধে তাকে সমাজ এমনকি গ্রাম থেকে বিতাড়িত করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন গ্রামের মোড়লরা।

সাঁওতালদের এক কুমারী মেয়ে হয়ে বাইরে থেকে আসার সাদা চামড়ার মানুষের গলায় মালা পরানোর অপরাধে শাস্তি পেতে হয়েছিল বুধনিকে। কারণ এতে নাকি তিনি জহরলাল নেহেরুর স্ত্রী হয়ে গিয়েছিলেন। যদিও নেহেরু তাকে স্ত্রীর সম্মান দেননি। সমাজ থেকে থেকে বহিস্কৃত করে একঘরে করে দেওয়া হয়। সমাজের কেউ তার মুখ দেখবে না, এমনটাই ছিল নিদান।

‘নেহেরুর স্ত্রী’ পরিচয় নিয়েই এরপর শুরু হয় তার লড়াই। যদিও দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনে চাকরি পেয়েছিলেন তিনি। তবে সেখান থেকেও তাকে পরে বিতাড়িত করা হয়। এরপর রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ফের তাকে চাকরি দেওয়া হয়। তাকে বাড়িও তৈরি করে দেওয়া হয় ডিভিসির তরফ থেকে।

অনেক বছর পর মুম্বাইয়ের একজন পরিচালকের সঙ্গে দেখা করে তার নামে বায়োপিক বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাতে রাজি হননি বুধনি। যে সময়ে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে সে সমাজের নিয়ম পরে কিছুটা শিথিল হলেও তিনি নিজেকে সমাজের অংশীদার করেননি। আত্বীয়স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে একপ্রকার নির্বাসনের জীবন যাপন করছেন। তাই লড়াই আজও শেষ হয়নি।