বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশ এবছর পাতে পড়তে চলেছে ভারতের খাদ্য রসিকদের

8
বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশ এবছর পাতে পড়তে চলেছে ভারতের খাদ্য রসিকদের

বাঙালিকে বলা হয় ‘ মাছে ভাতে বাঙালি ‘ । অর্থাৎ মাছ আমাদের বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য। আর সেটা যদি হয় ইলিশ তাহলে তো কোনো কথাই নেই। তবে এই দেশে বেশ কিছু বছর ধরেই ইলিশ মাছের টানাটানি। আর সেরকমই মাত্রারিক্ত দাম ফলে বাঙালি পরিবার চাইলেও সবার বাড়িতে ইলিশ ওঠা সম্ভব হয় না। তবে এই বছর বাঙালিদের জন্য রয়েছে সুখবর। জানা যাচ্ছে এই বছর পুজো উপলক্ষে ভারতে এবারও পাঁচ হাজার টনের মতো ইলিশ মাছ রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের ইলিশ ব্যবসায়ীদের। তাই পদ্মা নদীর ইলিশ এবছর পাতে পড়তে পারে ভারতের খাদ্য রসিকদের।

ঢাকার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর যে, গত বছর যতোটা ইলিশ রপ্তানির করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ততটা কাজে তাঁরা করেনি। তবে তার আগের বছর ২০২০ সালে সরকারি অনুমতির কথা মাথায় রেখে প্রথমে ১ হাজার ৪৫০ টন এবং পরে আরও ৪০০ টন ইলিশ রপ্তানির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অন্য বছরের মতন এই বছরও ইলিশ রপ্তানির অনুমতির জন্য প্রায় একশোটিরও বেশি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। তবে এখনও অব্দি ৫০ টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে জানা যায়। তবে গত বছরের মতো যেনো না অবস্থা হয় সেটাও নজর রাখা হবে। যাতে ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা সবটাই দেখা হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইলিশের বংশবৃদ্ধি ও বেড়ে ওঠা নিয়ে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এবারের রপ্তানিকালে ওই নিষেধাজ্ঞার আগে ও পরে অন্তত এক মাস করে মোট দু’মাস সময় দেওয়া উচিত। নইলে অনুমতি নিলেও খুব বেশি রপ্তানি করা যায় না। সময় কম দেওয়া হয় বলে একসঙ্গে সবাই বাজারে যায়। তখন উভয় দেশের বাজারেই ইলিশের দাম অহেতুক বেড়ে যায় তাই এবছর দুর্গাপূজার সময়ে ইলিশ পাওয়া যাবে পর্যাপ্ত। প্রতিবছর অক্টোবর মাসে ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, মজুত, বাজারজাতকরণ, কেনাবেচা ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গত বছর ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা ছিল তবে এই বছর ৭ ই আগস্ট এরপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
নিষেধাজ্ঞার কারণেই অল্প সময় পাওয়া যায় তাই বেশি রপ্তানি করা সম্ভব হয়না। তাই এই বছর একটু সময়ও বাড়ানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

রপ্তানিকারকদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইলিশ রপ্তানির সময়সীমা গতবার নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। দেশে বছরে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ টন ইলিশ উৎপাদিত হয়। তা থেকে চার-পাঁচ হাজার টন ইলিশ রপ্তানি হয়। এ কারণে দাম ও সরবরাহে খুব একটা প্রভাব পড়ে না বাজারে। তাতেও ২০০ কোটি টাকার সমান বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়।
তবে এই বছর যদি বেশি পরিমাণে ইলিশ আসে ভারতে আশা করা যায় যে, এই বছর ইলিশের দাম একটু হলেও সস্তা হবে।