নাসার অভিযানে জয় জয়কার বাঙালি বিজ্ঞানীর, গ্রহানু থেকে পাথর তুলে নিল ওসিরিস রেক্স মহাকাশযান

7
নাসার অভিযানে জয় জয়কার বাঙালি বিজ্ঞানীর, গ্রহানু থেকে পাথর তুলে নিল ওসিরিস রেক্স মহাকাশযান

নাসার অভিযানে অংশগ্রহণ করে আবারও জয় জয়কার বাঙালির। এর আগে বহুবার মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখার গুনে বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছেন বাঙালি মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা। এবার খড়গপুর আইআইটির এক প্রাক্তনী তথা বাঙালি বৈজ্ঞানিক প্রতাপ প্রামাণিক নাসার অভিযানের অংশীদার হয়ে সমগ্র বিশ্বে আবারও বাংলার তথা ভারতের নাম উজ্জ্বল করলেন।

মঙ্গলবার রাতে পৃথিবী থেকে কয়েক লক্ষ কিলোমিটার দূরত্বে এসে পৌঁছে ছিল মহাজাগতিক গ্রহাণু বেন্নু। এদিন ভোর প্রায় পৌনে চারটে নাগাদ নাসার মহাকাশযান ওসিরিস রেক্স মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের ব্যবধানে বেন্নুর পৃষ্ঠ থেকে এক টুকরো পাথর তুলে নিল। যার ওজন প্রায় ৬০ গ্রাম। এই অভিযানের জন্য প্রয়োজন ছিল কনিক্যাল করিউগেটেড মাইক্রোওয়েভ হর্ন অ্যান্টেনা, পোলারাইজার এবং মাইক্রোওয়েভ কমিউনিকেশনের জন্য ডিপ্লেক্সার।

এই তিনটি অতি প্রয়োজনীয় জিনিসের নকশা প্রস্তুত করেছেন বাঙালি বৈজ্ঞানিক প্রতাপ প্রামানিক। উল্লেখ্য, ওসিরিস রেক্স ছাড়াও জুনো, মাভেন, ইনসাইটের মতো নাসার একাধিক অভিযানের সঙ্গী হয়েছেন প্রতাপ। বর্তমানে, বেন্নুর কক্ষপথে ঘুরপাক খাচ্ছে ওসিরিস রেক্স। পাঁচশো মিটার ব্যাস বিশিষ্ট বেন্নু পৃথিবীর সবথেকে কাছে থাকা গ্রহাণু। প্রতি ছয় বছর অন্তর এটি পৃথিবীর কক্ষপথে ঢুকে খুব কাছ ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

বিজ্ঞানীদের দাবি, এই বেন্নু এতটাই শক্তিশালী যে এর আঘাতে প্রাচীন যুগে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেছে পৃথিবী থেকে। শুধু তাই নয়, আগামী ২১৭৫ থেকে ২১৯৬ সালের মধ্যে পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়বে বেন্নু। এমনটাই জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যার ফলে পৃথিবীর বুকে প্রায় দেড় হাজার মিটার গভীর গর্ত সৃষ্টি হবে। বেন্নু সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেই তার বুক থেকে এক খন্ড পাথর প্রয়োজন ছিল নাসার গবেষকদের। ভারতীয় বিজ্ঞানীর সহায়তায় নাসার সেই অভিযান সম্পন্ন হল।