মুম্বাইয়ে অটিজম আক্রান্ত শিশুর জন্য দুধের ব্যাবস্থা করলেন উড়িষ্যার আইপিএস অফিসার অরুণ বথ্রা

8
মুম্বাইয়ে অটিজম আক্রান্ত শিশুর জন্য দুধের ব্যাবস্থা করলেন উড়িষ্যার আইপিএস অফিসার অরুণ বথ্রা

মাঝে মাঝেই আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখতে পাই, সন্তানের অথবা স্বামীর জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে বলছেন বহু মানুষ। সামর্থ্য নেই অথবা নিঃস্ব পরিবারের পাশে আর্থিকভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার জন্য অনেকেই আবেদন করে থাকেন। সেই রকমই একটি টুইট করেছিলেন নেহা কুমারি। গত 4 এপ্রিল তিনি একটি টুইট করে জানান যে, তার একমাত্র শিশু অটিজম আক্রান্ত। সে গরু-ছাগল অথবা মহিষের দুধ খেতে পারে না। বেঁচে থাকার জন্য একমাত্র সে খেতে পারে উটের দুধ। তাই উটের দুধ জোগাড় করে দেবার জন্য কাতর আর্তি জানান তিনি সকলের কাছে।

নেট দুনিয়ায় এই আবেদন জেনে অনেকেই তাদের সমবেদনা জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু তাদের মধ্যে একজন ছিলেন যিনি সঠিক অর্থে তাদের পাশে দাঁড়ালেন। তিনি হলেন আইপিএস অফিসার অরুণ বথ্রা, তিনি উড়িষ্যা সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই ইউনিট এর অধিকর্তা।

মুম্বাই নিবাসী নেহার আবেদনে তিনি ছয়দিনের মধ্যে ব্যবস্থা করে দিলেন কুড়ি লিটার দুধ এবং কুড়ি কিলো গুঁড়ো দুধ। ঠিক কীভাবে তিনি এই অসাধ্য সাধন করলেন আসুন জেনে নেওয়া যাক। এই প্রসঙ্গে অরুণ বাবু জানিয়েছেন যে, নেহা টুইটি আমার নজরে আসার পরেই এগুলি বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে দি আমি। তারপর মোবাইল নাম্বার জোগাড় করি নেহার। তার সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি যে তার ছেলের জন্য কতটা জরুরী উটের দুধ।

আমার হৃদয় করে অনেকেই এগিয়ে এসেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন তরুণ জৈন। তরুণ বাবু রেলওয়ের কর্মকর্তা। তিনি জরুরী ভিত্তিতে মোবাইলে পাঠিয়ে দিলেন ৪০০ গ্রাম দুধ। এরপরই তিনি লেগে পড়লেন আরো বেশি দুধ সরবরাহের ক্ষেত্রে। রেলওয়ে শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন যে, মালগাড়ি লুদিয়ানা থেকে মুম্বাই এর উদ্দেশে রওনা হবেন ৯ এপ্রিল। সেই ট্রেনেই দুধ পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন তিনি।

এরপর রাজস্থানের হনুমন্ত সিং নামে একজন সাপ্লায়ারের কথা জানতে পারলেন তিনি। তারপর ওই মালগাড়িতে করে কুড়ি লিটার দুধ পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন তিনি। এইভাবে সুদূর রাজস্থান থেকে নেহা কুমারির কাছে পৌঁছে গেল লিটার লিটার দুধ।

ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যাবার পর নেট বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে তরুণের কথা। স্বাভাবিকভাবেই সকলের প্রশংসার যোগ্য হয়েছেন তিনি। তবে আইপিএস আধিকারিক দাবি করেছেন যে, তিনি কোনো শক্তিশালী মানুষ নন। প্রশাসনের উঁচু পদে থেকে আম জনতার সঙ্গে সেভাবে মেশা যায় না। তবে নেহার টুইটারের মতো কিছু পোস্ট বুঝিয়ে দেয় যে, এরকম কোন কোন সমস্যা এখনো দেশে রয়ে গেছে। সেগুলি সমাধান করতে পারে একমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া। এটা ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারলে দেশের সমস্ত দুর্দশা দূর হয়ে যাওয়া সম্ভব।