এই আইপিএস অফিসারের ট্রান্সফার আটকাতে পথে নামলো সাধারন মানুষ

20
এই আইপিএস অফিসারের ট্রান্সফার আটকাতে পথে নামলো সাধারন মানুষ

পুলিশ চিকিৎসক ও শিক্ষকের ট্রান্সফার হওয়া এটা কোন বড় ব্যাপার নয়। মাঝে মাঝেই আমরা শুনতে পাই, উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা ট্রান্সফার হয়ে গেছেন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়। কিন্তু আজ এমন একজন পুলিশ অফিসারের কথা বলব যা আপনার চোখে জল নিয়ে চলে আসবে। আইপিএস অফিসার কে কে আন্নামালাই ২০১১ সালের ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। তার কাজের পদ্ধতি সবার থেকে অনেকটাই আলাদা ছিল। তিনি তার ব্যবহারের জন্য সকলের কাছে খুব জনপ্রিয় ছিলেন।

তিনি মূলত তামিলনাড়ুর গরুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন। আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভাল ছিল না তার। তাই বাবা চেয়েছিলেন যে তিনি পড়াশোনা করুন এবং বড় কোন মাপের মানুষ হন। বাবার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন তিনি। বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে তিনি কোয়েম্বাটুর পি এস জি কলেজ অফ টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন।

এরপর তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট এ ভর্তি হয় এবং সেখান থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি চিরকালই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অফিসার হওয়ার লক্ষ্যে ছিলেন। তাই কাজের প্রথম দিন থেকেই তিনি সকলের ভরে আলাদা জায়গা করে রেখেছিলেন। তার কাজ করার পদ্ধতি এতটাই অনবদ্য ছিল, যে তিনি সিনিয়রদের থেকে জুনিয়ার সকলের প্রশংসার পাত্র ছিলেন।

তিনি কর্নাটকে কিছু বছর কাজ করেছিলেন এবং প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। সেখানকার মানুষেরা তাকে এতটাই ভালোবাসতেন যে যখন তাকে স্থানান্তরিত করা হল তখন সেখানকার মানুষেরা কাঁদতে শুরু করেন এবং রাস্তায় তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। আনাই মালাই কে আবার ও পদোন্নতি দেওয়া হল এবং বেঙ্গালুরু দক্ষিনে পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হলো।

২০১৮ সালে তাঁর পদত্যাগের খবর শুনে সকলেই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তার পদত্যাগের খবরে সমালোচনা করেন সকলেই। কেউ বুঝতে পারছিলেন না যে কেন একজন সৎ কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। তার ওপরে কি কোনো চাপ রয়েছে নাকি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে চান তিনি তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না কেউ।

কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী এবং তার সমস্ত আধিকারিক রা ব্যাপারটি বিবেচনা করে দেখতে বলেছিলেন তাকে। তবে আনাই মালাই যে কারণে পদত্যাগ করেছিলেন তা অত্যন্ত বিস্ময়কর ছিল। তিনি বলেছিলেন যে, একজন পুলিশ অফিসারের চাকরি খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়। প্রতি মুহূর্তে তিনি এতটাই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন জীবনে যে তিনি ছোটখাট জিনিস গুলি মিস করছেন। তাই চাকরি ছেড়ে দিয়ে সেগুলি উপভোগ করতে চান তিনি।

একজন ভাল বাবা হতে চান এবং ছেলের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। বাড়ি ফিরে গিয়ে কৃষি কাজ করতে চান এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। সম্প্রতি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন এবং নিজেকে সমাজ সেবায় নিয়োজিত করেছেন। শিক্ষিত বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়ার গুণাবলী শেখাচ্ছেন তিনি। ওই লিডার্স ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন তৈরি করেছেন তিনি, যেখানে চাকরি থেকে শুরু করে চাকরির সন্ধানে তরুণদের শিক্ষা দান করেন তিনি। এবারেও তিনি জৈব চাষ এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্য মানুষকে শিক্ষিত করছেন এবং উন্নত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করেছেন।