ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বাড়ি ঘর হারিয়ে হাহাকার ও আর্তনাদ সাধারন মানুষের

8
ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বাড়ি ঘর হারিয়ে হাহাকার ও আর্তনাদ সাধারন মানুষের

সমুদ্রের নোনা জল আর চোখের নোনা জলের মধ্যে এখন আর কার্যত কোনো পার্থক্যই রইলো না। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ, ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল জলোচ্ছাসে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সারা জীবন ধরে তিল তিল করে যা কিছু সঞ্চয় ছিল সবই আজ সমুদ্রের করাল গ্রাসে চলে গিয়েছে উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষদের। বাড়ি, জমি সব জলের তলায়।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সর্বহারা মানুষের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শঙ্করপুরের গ্রাম সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত। দীঘা উপকূলবর্তী বাকি সব গ্রামের চেহারা একই রকম। বাড়িঘর সব হারিয়েছেন মানুষ। বাড়ি ঘরের আসবাবপত্র সব জলের তলায়। চাষের জমি সমুদ্রের নোনা জলে ক্ষতিগ্রস্ত। এই ক্ষতিপূরণের হিসেব হয় কি? বুধবারের পর থেকেই ঘরছাড়া তারা। খাবারের বন্দোবস্ত নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই।

কিভাবে বাঁচবেন তারা? আদেও কি আর কখনো তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন? প্রতিনিয়ত এই প্রশ্নের জবাব খুঁজে চলেছেন দীঘা শঙ্করপুরের মানুষেরা। তিন দিন ধরে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে অভুক্ত রয়েছেন এই এলাকার মানুষ। নিকটবতী ত্রাণ শিবিরে যাওয়ার পরামর্শ অবশ্য দিয়েছে প্রশাসন। তবে এক গলা জল পেরিয়ে আধঘন্টার রাস্তা অতিক্রম করে ছোট সন্তানদের নিয়ে সেখানে যাবেন কি করে মানুষ?

দীঘা শঙ্করপুরে এখন শুধুই স্থানীয় বাসিন্দাদের হাহাকার শোনা যাচ্ছে। সকলেই একবাক্যে বলছেন, এমন ঘূর্ণিঝড়, এমন জলোচ্ছ্বাস ইতিপূর্বে আর কখনো দেখেননি তারা। ঘূর্ণিঝড় এর আগে অনেকবার হয়েছে। তবে এত বিপুল পরিমাণে ক্ষতির সম্মুখীন তাদের কখনো হতে হয়নি। প্রকৃতির রুদ্ররূপের কাছে তারা পরাজিত। দীঘার শঙ্করপুরের মানুষ এখন যেন ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করতেও ভয় পাচ্ছেন!