বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে স্ত্রীকে এক কেজি ওজনের সোনার মঙ্গলসূত্র দিতে গিয়ে পুলিশের জালে যুবক

15
বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে স্ত্রীকে এক কেজি ওজনের সোনার মঙ্গলসূত্র দিতে গিয়ে পুলিশের জালে যুবক

সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে নিত্যদিন কতইনা অদ্ভুত দৃশ্য আমাদের চোখে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়াই এখন কার্যত বিনোদনের সবথেকে বড় জগৎ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ দিনের একটি বড় অংশ এখানেই কাটান। বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি থেকেই সারাবিশ্ব যেন ঘুরে আসা যায় সোশ্যাল মিডিয়া মারফত। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশকিছু ভিডিও কিংবা ছবি এমন থাকে যেগুলি মানুষের মন ছুঁয়ে যায়, এক নিমেষের মধ্যে নজর কেড়ে নেয়।

সম্প্রতি এ রকমই একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি আসলে এক দম্পতির বিবাহ বার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানের একটি দৃশ্য ছিল। যেখানে দেখা যাচ্ছিল এক দম্পতি কেক কেটে নিজেদের বিবাহ বার্ষিকী উদযাপন করছেন। তবে সব থেকে বেশি করে যে জিনিসটি নেটিজেনদের নজর আকর্ষণ করেছিল তা হলো মহিলার গলার একটি সোনার মঙ্গলসূত্র!

নেটিজেনদের অনুমান ছিল প্রায় এক কেজি ওজনের সোনার মঙ্গলসূত্র বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে নিজের স্ত্রীকে উপহার দিয়েছেন ঐ ব্যক্তি। গলা থেকে প্রায় হাঁটু পর্যন্ত বিস্তৃত মঙ্গলসূত্রটি স্বভাবতই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের চর্চার বস্তু হয়ে ওঠে এই মঙ্গলসূত্র। তবে গোল বাঁধলো অন্য জায়গায়। যে মঙ্গলসূত্রটিকে নিয়ে নেট দুনিয়ায় এত জল্পনা ছড়িয়েছে, তা পুলিশেরও নজর এড়ায়নি।

ওই মঙ্গলসূত্রের ব্যাপারে কথা বলার জন্যই শেষমেষ ওই ব্যক্তিকে থানায় ডেকে পাঠায় পুলিশ। সেখানে তার সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, সোনার মঙ্গলসূত্র বলে যেটি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেটি আসলে সোনার নয়। ৩৮,০০০ টাকা দিয়ে সোনার মতোই দেখতে ওই মঙ্গলসূত্রটি বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে স্ত্রীকে উপহার দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। এই ব্যাপারে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে অবশেষে ওই ব্যক্তিকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অপরাধ জগত সম্পর্কে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে তাকে। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের প্রচার কার্যত অপরাধীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। তাই মহা মূল্যবান অলঙ্কার বাড়িতে না রেখে বরং ব্যাংকের লকারেই রাখার পরামর্শ দিচ্ছে পুলিশ।