এবার মলদানের উপর জোর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা! জানুন কারন

15
এবার মলদানের উপর জোর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা! জানুন কারন

এতদিন তো শুনেছিলাম যে কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য চুল চোখ রক্ত বা শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দান করা যায়, তবে বর্তমানে বিজ্ঞানীরা জোর দিচ্ছেন মলদানের উপরে। সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় এর চাহিদাও ক্রমশ বাড়ছে।

কিন্তু হঠাৎ এই বর্জ্য পদার্থটি কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ ‘দানসামগ্রী’ হয়ে উঠল? জানেন কি! আসলে অন্যের ভালো মল এখন অন্ত্রের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে। মলদাতাদের বলা হচ্ছে ইউনিকর্ন! কাল্পনিক এই শিংওয়ালা ঘোড়াকে যেমন দেখা যায় না, ঠিক তেমনই এই মলদাতারাও।

তবে ধীরে ধীরে মলদাতাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে বলে খবর। আর এভাবেই অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার চিকিৎসায় আরও ভালো সাড়া মিলবে বলে আশার আলো দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীদের কথায়, মানব শরীরের সুস্থতার বিষয়ে শরীরে বসবাসকারী মাইক্রোবায়োম অর্থাৎ আণুবীক্ষণিক জীবদের বিরাট প্রভাব রয়েছে। আর আজকালকার দিনে ফাস্ট ফুড ও অ্যান্টি বায়োটিকের বাড়াবাড়িতে মাইক্রোবসদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

আর এক্ষেত্রে ‘উচ্চ’ মানের মল থেকে ভালো ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হলে অন্ত্র আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তাই এই ধরনের মলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুপার স্টুল’। যদিও এই ধরনের দাতা খুঁজে বের করা মুশকিল। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতিতে কোনো কিছুই অসাধ্য হয় ডাক্তারদের পক্ষে। তাই অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের বায়োমব্যাংক এখন ‘ইউনিকর্ন’ খোঁজার দিকেই মনোনিবেশ করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে এরইমধ্যে তৈরি হয়েছে স্টুল ব্যাংক। দাতাদের মল সংগ্রহ করে সেখান থেকে ব্যাকটেরিয়া স্ট্রেন বের করে নিয়ে তাকে এক ধরনের তরলে রাখা হয়। সেখানেই তারা বাড়তে থাকে। তারপর তাদের আলাদা আলাদা ভাবে চিহ্নিত করে রেখে প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করা হয়।