এখন তিন কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হলেও বাকি জনতার কি হবে? মোদীকে প্রশ্ন মমতার

9
এখন তিন কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হলেও বাকি জনতার কি হবে? মোদীকে প্রশ্ন মমতার

সম্প্রতি ভারতের করোনা টিকাকরণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক সেরে ফেলেছেন। আর সেখানে এই মমতা ব্যানার্জি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, এখন তিন কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হলেও বাকি জনতার কি হবে? সেই নিয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি কেন্দ্রের তরফ থেকে। কিন্তু সেই নিয়ে পরে জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে। এখন প্রথম দফায় প্রথম সারির কর্মী অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর্মী নার্স ডাক্তার এদের টিকাকরণ শুরু হবে। অবশ্য রাজ্য সরকার টিকা করনের জন্য একেবারেই প্রস্তুত সেই কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে একটি দাবি তোলা হয়েছে যে পরিবহন দপ্তরের কর্মীদের প্রথম সারির কোভিড যোদ্ধাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভ্যাকসিনের ড্রাইরান পর্ব শেষ হয়েছে। সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড এবং ভারত বায়োটেক এর তৈরি কোভ্যাক্সিনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে দেশে। আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে দেশে প্রথম টিকাকরণ পর্ব শুরু করা হবে। জানিয়ে গতকাল সোমবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে টিকা দানের প্রক্রিয়া, সংরক্ষন ও উপস্থিতি নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধানমন্ত্রী কে প্রশ্ন করেন, প্রথম দফায় তিন কোটি মানুষকে টিকাকরণ এর অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বাকি ১২৭ কোটি মানুষের কি হবে? তাদের জন্য কি রাজ্য সরকারের ভ্যাকসিন কিনতে হবে? তবে এই নিয়ে কেন্দ্র তরফ থেকে জানানো হয়েছে আগামী সময়ে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই টিকাকরণ নিয়ে এখনো কিছু জট রয়ে গেছে, এমনটাই মনে করছে বিশিষ্ট মহল। কারণ ভারতে তৈরি হওয়া কোভ্যাকসিন এর এখনো তৃতীয় দফায় ট্রায়াল’ চলছে। তাই বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলেছে, ট্রায়াল’ শেষ না হওয়ার আগেই দেশে শুরু হতে চলেছে টিকাকরণ। তাহলে প্রশ্ন এই ভ্যাকসিন কতটা নিরাপদ? গতকালের ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সূত্র ধরেই কেন্দ্রের কাছে প্রশ্ন করেছেন, অনুমোদন দেওয়া টিকার কার্যকারিতা নিয়ে রাজ্যকে কোনো তথ্য কি দেওয়া হবে? মোটকথা টিকাকরণ করার আগেই বিজ্ঞানীদের ভ্যাকসিন নিয়ে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে পরিষ্কার হওয়া উচিত, এমনটাই মনে করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তরে নীতি আয়োগ এর সদস্য বিনোদ কে পাল জানিয়েছেন, এই দুটি ভ্যাকসিন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, এর নেই কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া এবং এটি একেবারেই নিরাপদ।