সংক্রমণ এড়াতে রোগের বদলে, রোগীকেই নির্মূল করার সিদ্ধান্ত উত্তর কোরিয়ার

7
সংক্রমণ এড়াতে রোগের বদলে, রোগীকেই নির্মূল করার সিদ্ধান্ত উত্তর কোরিয়ার

চরম রাজনৈতিক স্বৈরাচারীতার দেশ উত্তর কোরিয়া। সেখানে রাষ্ট্রপ্রধান যা মনে করেন, তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস নেই কারো। এই নিয়মের বেড়াজালে, এর আগে বহু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অনায়াসেই সে দেশে লাগু করেছে রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং উন। এবার আরেক স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত নিলেন সে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি যদি উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করেন তাহলে দেখা মাত্রই তাকে গুলি করা হবে।

করোনা সংক্রমণের জেরে সারা বিশ্বের প্রতিটি দেশে যেখানে নাভিশ্বাস উঠছে, সেখানে কিম জং উনের দেশ এখনো সংক্রমণমুক্ত। চীন থেকে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার মুখে‌ জানুয়ারি মাসে উত্তর কোরিয়া এবং চীনের সীমান্তে অবস্থিত পনগ্যাং এলাকা সিল করে দেয় উত্তর কোরিয়া প্রশাসন। সংক্রমিত ব্যক্তি যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করে মহামারী না ছড়াতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তবে সম্প্রতি, মার্কিন সেনাবাহিনীর এক কমান্ডার উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরলেন। উত্তর কোরিয়া এবং চীনের সীমান্তে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাফার জোন তৈরি করেছে কিম জং উন প্রশাসন, যেখানে টহল দিচ্ছে স্পেশাল অপারেশন ফোর্স। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সংক্রামিত ব্যক্তি সীমান্ত পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করলেই অবিলম্বে তাকে গুলি করে হত্যা করতে হবে।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতিতে মহামারীর সংক্রমনের হাত থেকে এ পর্যন্ত রক্ষা পেতে সক্ষম হলেও, উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি কিন্তু বেজায় বিপাকে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যখাতে অত্যন্ত কম বিনিয়োগ করেন কিম জং উন। ফলে, স্বভাবতই উত্তর কোরিয়ার চিকিৎসা পরিকাঠামোতেও গোড়ায় গলদ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ এড়াতে রোগের বদলে, রোগীকেই নির্মূল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিম জং উন প্রশাসন।