কোনো মহিলাকে জোর করে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ করে রাখা যাবে নাঃ সুপ্রিমকোর্ট

14
কোনো মহিলাকে জোর করে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ করে রাখা যাবে নাঃ সুপ্রিমকোর্ট

কোনো বিবাহিতা মহিলা কখনোই তার স্বামীর দাসী কিংবা সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন না। তিনি না চাইলে তাকে জোর করে স্বামীর সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা যাবে না। তিন বছর পূর্বের একটি মামলার পরিপেক্ষিতে সম্প্রতি দেশের শীর্ষ আদালত এরকমই একটি রায় প্রদান করেছে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয়, কোনো মহিলা যদি না চান তাহলে তাকে জোর করে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ করে রাখা যাবে না।

উল্লেখ্য, শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হয়ে এক মহিলা স্বামীর সংসার ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের আদালতে ২০১৫ সালে খোরপোশের জন্য মামলাও দায়ের করেন তিনি। ওই মহিলার অভিযোগ ছিল, ২০১৩ সালে তিনি তার স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হন। এরপর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের সম্মুখীন হতে থাকেন তিনি।

মহিলার অভিযোগ, পণের দাবিতে তার উপর নির্যাতন চালানো হতো। এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গোরক্ষপুরের আদালত অভিযোগকারিণীর আর্জি মেনে তার স্বামীকে প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা খোরপোশ ওই মহিলার হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এরপরেই ২০১৯ সালের এপ্রিলে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের পারিবারিক আদালতে হিন্দু বিবাহ আইন (এইচএমএ)-এর ৯ নং ধারাবলে ওই ব্যক্তির পক্ষেই বিবাহবন্ধনের অধিকার পুনরুদ্ধারের রায় প্রদান করা হয়। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ওই মহিলা। সুপ্রিম কোর্টের তরফের রায় এদিন মহিলার পক্ষেই গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনো মহিলা তার স্বামীর সঙ্গে থাকবেন কিনা তা নিতান্তই তার ইচ্ছের উপর নির্ভর করবে। তাকে আইন বলে কোনোভাবেই বাধ্য করা যাবে না।