NEET ২০২১ প্রথম স্থানাধিকারি মৃণাল কুট্টেরি! জানুন তার সফলতার কাহিনী

28
NEET ২০২১ প্রথম স্থানাধিকারি মৃণাল কুট্টেরি! জানুন তার সফলতার কাহিনী

৪ ঘন্টা পড়া এবং এই চার ঘণ্টা পড়েই NEET পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করলেন মৃণাল। কিভাবে এত অল্প সময়ে পড়েও অসাধারণ সাফল্য লাভ করলেন সে ব্যাপারেই অদ্ভুত একটি গল্প শোনালেন তিনি। তার এই সাফল্যের পিছনে যে অন্যরকম একটি গল্প রয়েছে সে ব্যাপারেই এবার সকলের কাছে নিজস্ব বক্তব্য রাখলেন। ভারতের সমস্ত পরীক্ষার মধ্যে একটি অন্যতম পরীক্ষার হল NEET। ২০২১ এর
NEET পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে মৃণাল।

স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য বছরে যে সমস্ত পরীক্ষার্থীরা জায়গা করেন তাদের মতামত অনুযায়ী তাদের পড়াশোনা চলত ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কিন্তু মৃণালের ব্যাপারটা একটু অন্যরকম কারণ তার পড়াশোনার রুটিন টাই ছিল একেবারেই আলাদা। মৃণাল সংবাদমাধ্যমকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এবং যেখানে তিনি জানান NEET পরীক্ষার প্রস্তুতি যখন তিনি নিচ্ছিলেন তখন বেশিরভাগ সময় তিনি অ্যামাজন প্রাইম এবং নেটফ্লিক্সে বেশি সময় কাটাতেন।

মৃণাল জানান, “যখনই পরীক্ষায় কেউ রেঙ্ক করে তখন তাদের কথা এবং ইন্টারভিউ যখন আমি শুনি তখন আমার ভীষণ ভয় লেগেছিল যে এত ঘন্টা তারা কি করে পড়াশোনা করে। করোনার সময়ে বাইরের জগত আমি একেবারেই ভুলে গেছিলাম আমার গোটা পৃথিবী ছিল আমার ফোন, টিভি এবং ল্যাপটপ। প্রথম প্রথম দিকে আমি অনুভব করেছিলাম যে হয়তো এই সমস্ত কারণে আমার পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ কিছুটা হলেও নষ্ট হতে পারে, কিন্তু সময় যত গেল ততই আমার মনোযোগ আরো বাড়লো এবং আমি দিনে ৪ ঘন্টা পড়ার জন্য বেছে নিয়েছিলাম যেটা আমার জন্য যথেষ্ট ছিল”।

কোন পরীক্ষায় কেউ ভালো জায়গায় পৌঁছালে তার কাছ থেকে পড়াশুনা করার নিয়ম কানুনটা জেনে নেওয়া হয় কিন্তু সে ক্ষেত্রে মৃণালের চিন্তা ভাবনাটা একেবারেই অন্য। যেসমস্ত ছাত্রছাত্রীরা এই পরীক্ষায় বসেন তাদের প্রথমেই নজর থাকে জীবন বিজ্ঞানের প্রতি এবং তারা জীবন বিজ্ঞান বিষয়ের উপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রথম থেকে পড়তে থাকেন, কিন্তু মৃণালের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা একেবারেই অন্য, তিনি এই বিষয়টির উপর এত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে একেবারে শেষের দিকে এই বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রস্তুতি শুরু করেন। তিনি তাঁর সমবয়সীদের উদ্দেশ্যে বলেন,” পড়াশুনার কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকেনা যখন আমি টপারদের ইন্টারভিউ দেখতাম, সেই সময় আমি বুঝতে পারতাম না যে আমি কি করে এ সময় সূচি গুলোকে মেইনটেইন করব এবং যেটা আমি শেষ পর্যন্ত পারিনি। আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে কোন নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী আমার এই নিয়ম পালন করলে হবে না। অবশ্য এ ব্যাপারে আমি ভীষণ ভাগ্যবান যে আমার বাবা-মা এবং আমার শিক্ষকেরা কখনোই আমাকে এই বিষয়ের ওপর বা পড়াশোনা করার সময়সূচির ওপর কোনো রকম জোর দেখাননি”।

২০২০ সালে মৃণাল একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দেন এবং তারপর থেকেই NEET পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মৃণাল জানায় যে, করোনা পরিস্থিতি সময় ডাক্তাররা যেভাবে তাদের কর্ম দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে সেটা অনেক বেশি তাকে প্রভাবিত করেছে। মৃণাল তার গোটা পরিবারের মধ্যে প্রথম ডাক্তারি পেশা গ্রহণ করতে চলেছেন আগামি দিনে।