গ্রহাণু অভিযানে নামছে নাসা! যার একটি টুকরোয় কোটিপতি হয়ে যেতে পারেন পৃথিবীর সকলে

25
গ্রহাণু অভিযানে নামছে নাসা! যার একটি টুকরোয় কোটিপতি হয়ে যেতে পারেন পৃথিবীর সকলে

সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে বহু আশ্চর্য সব জিনিস। যুগ যুগ ধরে সেইসব জিনিসের সন্ধান চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। যার মধ্যে কিছু জিনিসের সন্ধান মিললেও এখনো বহু জিনিস অধরা। খোঁজ চলছে। এই খোঁজের মধ্যেই মহাশূন্যে সন্ধান মিলেছে বহু আশ্চর্য জগতের। এরই একটি ১৬-সাইকি। প্ল্যাটিনাম, সোনা, লোহা, তামা-সহ একাধিক বহুমূল্য ধাতুতে ঠাসা এই গ্রহাণু। এ বার পৃথিবীর বুকে সেই সম্পদের ভাণ্ডারকে নামিয়ে আনার তোড়জোড় শুরু করে দিলেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, ওই গ্রহাণুর এক একটি টুকরোয় বিশ্বের সবাই কোটিপতি হয়ে যেতে পারেন!

আজ থেকে প্রায় ১৭০ বছর আগে, ১৮৫২ সালেই ওই জগতের অস্তিত্বের কথা খানিকটা আন্দাজ করা গিয়েছিল। সেটি প্রথম আবিষ্কার করেন ইটালির জ্যোতির্বিজ্ঞানী আনিবেল দি গাসপারিস। শুরুতে আর পাঁচটা মৃতপ্রায় গ্রহাণুর মতোই মনে হয়েছিল বিজ্ঞানীদের। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই গ্রহাণুর মোহময়ী রূপ পরিলক্ষিত হয়। সেই ১৬-সাইকি গ্রহাণু অভিযানে নামছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

এই গ্রহাণুর অবস্থান পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৭ কোটি কিলোমিটার দূরে মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহের মাঝামাঝি। জানা গেছে, ২০২২ সালের আগস্টে এই গ্রহাণু অভিযানে নামছে নাসা। নাসার মহাকাশযানের পৌঁছতে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে তিন বছর। বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য ২০২৬-এর শুরুর দিকে ওই গ্রহাণু থেকে মূল্যবান ধাতু সমৃদ্ধ চাঙর তুলে এনে গবেষণা করা।

নাসা জানিয়েছে, গ্রহ হিসেবে একটু একটু করে গড়ে ওঠার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় কক্ষপথ থেকে বিচ্যূত হয়ে অন্যদের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সেটি মহাশূন্যে মৃত অবস্থায় ভাসছে। প্যাসাডিনার ক্যালটেক গবেষণা সংস্থার মতে, ৫০ মেগাপিক্সেল রেজোলিউশনের যে ছবি তাদের হাতে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে গ্রহাণুপৃষ্ঠটি ধাতুতে মোড়া। গ্রহাণুটির ভূপৃষ্ঠের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ বহুমূল্য ধাতুর মোটা চাদরে ঢাকা। গ্রহাণুটি মাত্র ২০০ কিলোমিটার চওড়া। তার কলেবরে জমা বহুমূল্য ধাতুর বাজারমূল্য হরেদরে প্রায় ১০ হাজার কোয়াড্রিলিয়ন, অর্থাৎ ১০ লক্ষ লক্ষ কোটি ডলার। গোটা গ্রহাণুটিকে যদি ভেঙে ভেঙে নিয়ে এসে বণ্টন করা হয়, তাহলে পৃথিবীর ৭৭০ কোটি মানুষের প্রত্যেকে মাথা পিছু কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যাবেন।

১৬-সাইকি গ্রহাণুর শরীরে প্ল্যাটিনাম, সোনা, নিকেল, লোহা, তামা-সহ একাধিক বিরল প্রকৃতির ধাতুর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তবে গ্রহাণুটি সম্পর্কে এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট ধারণা পাননি তাঁরা। নাসার মহাকাশযান পৌঁছলে আরও অনেক রহস্যের উদঘাটন হয়তো হবে। তাই একটানা ২১ মাস ধরে নাসার মহাকাশযান গ্রহাণুটিকে পর্যবেক্ষণ করবে। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠাবে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নাসার মহাকাশযান পৌঁছলে গ্রহাণুটির আসল বয়সও নির্ধারণ করা যাবে। সেটি পৃথিবীর সমবয়সি নাকি তার চেয়েও প্রবীণ- সেই ব্যাপারেও সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

এখনও পর্যন্ত ১৬-সাইকি সম্পর্কিত যা যা তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়েছে তা নিয়ে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে নাসা। চিলির বিজ্ঞানীরা বলছেন, তার বুকে জমা হওয়া পাথরের মতো চাঁইগুলিও বিভিন্ন মহামূল্যবান ধাতুতে ঠাসা। তাঁদের দাবি, এ ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র উপায় নাসার মহাকাশযান পৌঁছানো।

তবে এত দিন মহাকাশ অভিযান যেখানে প্রাণের সন্ধানে এবং জীবনধারণের উপযুক্ত পরিবেশ খুঁজে বার করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে এই সম্পদ অভিযান নিয়ে আপত্তিও উঠতে শুরু করেছে। এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত নাসার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী তথা অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড স্পেস এক্সপ্লোরেশনের অধ্যাপক লিন্ডি এলকিন্‌স ট্যান্টন নিজেই মহাকাশ থেকে এই সম্পদের ভাণ্ডারকে পৃথিবীতে আনার বিপক্ষে।

লিন্ডির মতে, এখনও পর্যন্ত ১৬-সাইকি গ্রহাণুর মতো অত্যাশ্চর্যজনক দ্বিতীয় কিছুর সন্ধান নেই। এই প্রথম তার অন্তঃস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা শুরু করা হচ্ছে। কাছাকাছি পৌঁছতে পারলেই গ্রহাণুটি সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা পাওয়া যাবে। তবে সেখান থেকে বহুমূল্য ধাতু নিয়ে আসা শুরু হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ধস নামবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। লিন্ডি আরও বলেছেন, ওই গ্রহাণু থেকে আনা ধাতুগুলির মধ্যে শুধু লোহার মূল্যই হয়ত ১০ লক্ষ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এতে পৃথিবীতে যে লোহা রয়েছে, তার আর কোনো মূল্য থাকবে না। সোনা, প্ল্যাটিনাম, তামা ইত্যাদি ধাতুও মূল্যহীন হয়ে পড়বে। তাতে গোটা বিশ্ব অর্থনীতিতে বিশাল ধস নামবে। সমস্ত দেশের সরকার, খননকার্যে যুক্ত ছোট-বড় সংস্থা, ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব হয়ে যাবেন।

তবে ক্যালটেকের গ্রহবিজ্ঞান এবং জোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপিকা ক্যাথরিন দি ক্লিরের মতে, এমনও হতে পারে যে ধাতুগুলি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ অবস্থায় নেই। গ্রহাণুর গোটা কলেবরে ভিন্ন ভিন্ন রূপে মিশে রয়েছে। সে ক্ষেত্রে গ্রহের অন্তঃস্থল পরীক্ষার ক্ষেত্রেও এই অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রূপ নেবে।