ইঁদুরের অত্যাচারে নাজেহাল অস্ট্রেলিয়া! ভারত থেকে চেয়ে পাঠালো ইঁদুর মারার বিষ

10
ইঁদুরের অত্যাচারে নাজেহাল অস্ট্রেলিয়া! ভারত থেকে চেয়ে পাঠালো ইঁদুর মারার বিষ

হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা বাঁশি বাজিয়ে সমস্ত হ্যামিলিন শহরের ইঁদুরকে একত্রিত করে তাদের শহর থেকে দূরে নিয়ে গিয়ে শহরকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন। এহেন গল্পগাথা সারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। বাঁশির শব্দে ইঁদুরকে মোহিত করা যায় কিনা জানা নেই, তবে ইঁদুরের দৌরাত্ম্য কমাতে আজও নাজেহাল হতে হয় মানুষকে। ক্ষেতের ফসল, খাদ্যবস্তু, জামা কাপড়, কাগজপত্র, আসবাবপত্র কোন কিছুই আস্ত রাখতে চায় না তারা।

অতএব ইঁদুর দমনের নানান কৌশল ভেবে করতে হয় মানুষকে। ইঁদুর ধরার কল, বিষ, আঠা ইত্যাদি ব্যবহার করে ইঁদুরের উপদ্রব অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। সম্প্রতি ইঁদুরের দৌরাত্ম্যে রাতের ঘুম উড়েছে অস্ট্রেলিয়ার। সে রাষ্ট্রে ইঁদুরের উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে তা সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে মানুষকে। অতএব অস্ট্রেলিয়া ইঁদুর দমন করতে এখন ভারতের শরণাপন্ন।

বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, অস্ট্রেলিয়া ভারতের থেকে ইঁদুর মারার জন্য বিষ কিনতে চায়। পাঁচ হাজার লিটার বা ১৩২০ গ্যালন বিষের অর্ডার ইতিমধ্যেই ভারতের কাছে এসে গিয়েছে। ইঁদুর মারার দুর্দান্ত বিষ নিষিদ্ধ ব্রোমেডিওলোন ভারত থেকে আমদানি করতে চায় অস্ট্রেলিয়া। ইঁদুরের উপদ্রবে অস্ট্রেলিয়ার বাড়িঘর, কল-কারখানা, কৃষি ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি ইঁদুরে বিদ্যুতের তার কেটে দেওয়ায় একটি বাড়িতে আগুন ধরে গিয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই ইঁদুরে নিয়ন্ত্রণে আনতে বদ্ধপরিকর অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসন। এমনিতেই সারা পৃথিবী এখন ভয়ঙ্কর করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তবে অস্ট্রেলিয়াতে ইঁদুরের উপদ্রব করোনার থেকেও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। ইঁদুরের উপদ্রবে সেই রাষ্ট্রে যা ক্ষতি হচ্ছে, তাতে চিন্তিত অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশ। তাই ভারতের কাছে ইঁদুর মারার বিষ কিনতে চেয়ে আবেদন জানিয়ে পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।