আগামী ৯ বছরের মধ্যেই সমুদ্রে তলিয়ে যাবে কলকাতা সহ দেশের একাধিক শহর! আশঙ্কা ভূতত্ত্ববিদের

9
আগামী ৯ বছরের মধ্যেই সমুদ্রে তলিয়ে যাবে কলকাতা সহ দেশের একাধিক শহর! আশঙ্কা ভূতত্ত্ববিদের

তাহলে কি মহাপ্রলয় আসন্ন? এমনই আশঙ্কা করছেন ভূতত্ত্ববিদরা। কিন্তু কি হতে চলেছে? তাঁরা বলছেন ধীরে ধীরে জলের তলায় চলে যাচ্ছে কলকাতা দিল্লী মুম্বাই চেন্নাইয়ের মতো মেট্রো শহর গুলি।

কারণ ধীরে ধীরে সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে, আগামী ৯ বছরের মধ্যেই কলকাতাকে স্পর্শ করে ফেলবে সমুদ্র। যে কারণে বাস্তব চিত্র খুবই ভয়ংকর, কিন্তু এও কি সম্ভব? যদি সম্ভবও হয় কিন্তু কিভাবে? ভূতত্ত্ববিদ সুজীব কর বলছেন ধীরে ধীরে কলকাতার মাটির তলা থেকে পলি সরে যাচ্ছে, ফলে দুর্বল হয়ে পড়ছে কলকাতার মাটি। অপরদিকে সমুদ্রের জল স্তর যে দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে, তা কলকাতার জন্য যথেষ্ট অশনি সংকেত।

তবে ভারতবর্ষের উপকূলবর্তী এলাকায় মোট ১২ টি শহর তলিয়ে যেতে পারে আগামী ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। সুজীব বাবু বলছেন সমুদ্রের কাছে মাটির স্তর সবসময় উন্মুক্ত অবস্থা থাকে, যার ফলে সেই স্তর দিয়েই সমুদ্রের নোনা জল মাটিতে প্রবেশ করতে শুরু করবে এবং ভূগর্ভস্থ জল কেউ নোনা করে তুলবে এবং ধীরে ধীরে মাটির তলার পলি রাশি ধুয়ে বেরিয়ে যাবে।

যে সমস্ত জায়গায় হেভি কনস্ট্রাকশন, হাইরাইজ বিল্ডিং কিংবা মেট্রো কনস্ট্রাকশন রয়েছে, সেইসব অঞ্চল একেবারে হঠাৎই বসে যাবে। সমুদ্রের জল স্তর বাড়ার ফলে সেই জল শহরের মধ্যে প্রবেশ করতে শুরু করবে। বিশেষজ্ঞরা আরো মনে করছেন প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকা সমুদ্রের তলায় চলে যাবে। আগামী ১০ বছর পর ভূমি ভাগের আরো ৭০ কিলোমিটারে সমুদ্রের জল ঢুকে পড়বে এবং তাতে ১২ থেকে ১৫ টি শহর নিমেষে তলিয়ে যাবে।

তাতে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমানের বেশ খানিকটা অঞ্চল শুধুমাত্র টিকবে। এত বেশি পরিমাণে পরিবেশ কে দূষিত করেছি আমরা, এমনকি বিশ্ব উষ্ণায়নও বাড়িয়ে তুলেছি যার ফলে এই জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে। এবং যার জেরে এমন অশনিসংকেত ঘনিয়ে আসছে আমাদের দিকে।

তবে একে থামানো সম্ভব যদি এখনও প্রশাসন তৎপর হয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উপকূলের প্রায় ৮৬ মিটার পর্যন্ত গভীরতা এলাকাকে মাটির নিচ দিয়ে ব্যারিকেড করে দিতে হবে, যাতে সমুদ্রের জল মাটির ক্ষয় করতে না পারে। তার সাথে দূষণ রোধ করতে হবে, যাতে করে হয়তো আরো ৮০ বছর আমরা বাঁচিয়ে রাখতে পারি এই পৃথিবীকে। বর্তমানে যে পরিস্থিতি তা এখন প্রত্যেকের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ, এ পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরাই পারি।