মহা শিবরাত্রির ঠিক আগের দিন পালিত হয় বুধ প্রদোষ ব্রত, জানুন এর মাহাত্ম্য

14
মহা শিবরাত্রির ঠিক আগের দিন পালিত হয় বুধ প্রদোষ ব্রত, জানুন এর মাহাত্ম্য

আগামী ১০ই মার্চ বুধবার, মহা শিবরাত্রির ঠিক আগের দিনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ভগবান শিবকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে পুণ্য প্রদোষ ব্রত পালন করবেন। মহা শিবরাত্রির ঠিক আগের দিনের এই ব্রত কার্যত বুধ প্রদোষ ব্রত হিসেবেই পালিত হবে। প্রতি মাসের ত্রয়োদশী তিথিতেই এই ব্রত পালন করা যায়। দিনবিশেষে এই ব্রত ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

শিব এবং শিবানীকে সন্তুষ্ট রাখতে, দাম্পত্যে সুখ অব্যাহত রাখতে এবং জীবন মঙ্গলময় করে তোলার উদ্দেশ্যে এই ব্রত পালন করে থাকেন ব্রতচারীরা। প্রদোষ কালে অর্থাৎ সূর্যাস্তের আগের ৪৫ মিনিট থেকে শুরু করে এবং পরের ৪৫ মিনিটের মধ্যেই এই ব্রত পালন করতে হয়। আগামী বুধবার ১০ মার্চ দুপুর ২টো ৪০ মিনিট থেকে ত্রয়োদশী তিথি আরম্ভ হচ্ছে। ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো ৩৯ মিনিটে তা শেষ হবে।

অর্থাৎ পুণ্য প্রদোষ ব্রতের ফল লাভ করতে হলে বুধবার প্রদোষকালেই ব্রত পালন করতে হবে। এই ব্রতের ব্রতকথা জানতে হলে চলে যেতে হবে সেই পুরাকালে। প্রজাপতি দক্ষের ২১জন কন্যার সঙ্গে বিবাহ হয়েছিল চন্দ্র দেবতার। তবে পত্নীদের মধ্য থেকে রোহিণীর প্রতি যেন একটু বেশিই দুর্বল চন্দ্র। যে কারণে অন্যান্যরা নিজেদের অবহেলিত মনে করতেন। এমতাবস্থায় তারা দক্ষ রাজার কাছে চন্দ্রের নামে নালিশ করে।

কন্যাদের থেকে চন্দ্রের নামে নালিশ শুনেইরাগে অন্ধ হয়ে প্রজাপতি দক্ষ চন্দ্রদেবতাকে অভিশাপ দেন ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হতে হবে তাকে। দক্ষের এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে শিবের শরণাপন্ন হন চন্দ্র। পুণ্য প্রদোষ ব্রত পালন করে শিবকে সন্তুষ্ট করে তবেই ক্ষয় রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন চন্দ্র। এই ব্রত পালন করতে হলে সারাদিন উপবাসে থেকে, শুদ্ধাচার পালন করে সন্ধ্যেবেলা পুজোয় বসতে হবে। ওম উমা সহিত শিবায় নমঃ মন্ত্রটি ১০৮ বার জপ করে যথাযথ নৈবেদ্য এবং উপচারসহ ভগবান শিবের আরাধনা করতে হবে। তবেই যথার্থ ফল মিলবে।