মহিলাদের পাশাপাশি পুরুষরাও মেনোপজের স্বীকার! জানুন বিস্তারিত

18
মহিলাদের পাশাপাশি পুরুষরাও মেনোপজের স্বীকার! জানুন বিস্তারিত

মহিলাদের পাশাপাশি যে পুরুষদের মেনোপজ হয়ে থাকে, সেই বিষয়ে আমরা হয়তো অনেকেই অবগত নই। তবে এই বিষয়ে পুরুষদের মেনোপজ মহিলাদের তুলনায় একেবারেই আলাদা। এবার জেনে নিন মেনোপজ কাকে বলে? মহিলাদের পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়া কে বলা হয় মেনোপজ। শারীরিক পরিবর্তন ঘটে এই সময়ে। মহিলাদের মেনোপজের পর তারা প্রযোজনে অক্ষম হয়ে যান। অন্যদিকে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের স্তর যখন কমে যায়, তখন তাকে বলা হয় মেল মেনোপজ।

মেইল মনোপজকে বলা হয় অ্যান্ড্রোপজ। বয়সের সাথে সাথে পুরুষদের হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এই রকম পরিবর্তন হয়। বেশি বয়সী পুরুষদের মধ্যে টেস্টোস্টেরনের উৎপাদন একেবারেই কমে যায়। এই প্রসঙ্গে ডাক্তার পঙ্কজ আগারওয়াল জানিয়েছেন, এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যা বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হয়ে থাকে। এটি ব্যক্তির শরীরে একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন। এর ফলে ব্যক্তির মধ্যে অন্য কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে যদি মানুষের মধ্যে অবসাদ অথবা অন্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডাক্তার আরও জানিয়েছেন, হোমিওপ্যাথিতে কোন রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া এই রোগের চিকিৎসা করা যায়। এই হরমোনের সমস্যা শুধু যৌন সমস্যায় বাড়ায় তা নয়, শরীরের নানান অংশে প্রভাব বিস্তার করে। হোমিওপ্যাথির দ্বারা সম্পূর্ণভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক পুরুষদের জীবনের কোন কোন পরিবর্তন দেখে আপনি বুঝতে পারবেন মেনোপজ হয়েছে।

এনার্জি কমে গেলে বুঝতে পারবেন শরীরে মেইল মনোপজ হয়েছে। মনমরা হয়ে থাকলে আন্দাজ করতে পারবেন। সারা দিন যদি অবসাদগ্রস্ত হয়ে থাকেন বিনা কারণে, তাহলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, অনিদ্রা, মনোযোগী হতে না পারা, যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া, চুল ঝরে যাওয়া, হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া, বন্ধ্যাত্ব দেখে আমরা বুঝতে পারি পুরুষদের মেল মনপজ হচ্ছে।

একজন স্বাভাবিক পুরুষের ক্ষেত্রে ৫০ বছরের পর শরীরে টেস্টোস্টেরন কমে যেতে থাকে। তবে যদি কম বয়সে এটি হয়ে যায় তাহলে মনে করতে হবে, পুরুষদের মধুমেয়, এইচআইভি, ফুসফুসের রোগ, লিভারের রোগ, হারের সমস্যার কারণে মেইল মেনোপজ দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও অধিক ধূমপান, মানসিক অবসাদ অথবা ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে পুরুষদের মধ্যে শীঘ্র মনোপজ দেখা দিতে পারে।

এটি নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন না। অনেকে আবার লজ্জার কারনে অন্য কাউকে এই বিষয়ে কথা বলতে পারেন না। কিন্তু একাকীত্ব অনুভব করলে অথবা মন খারাপ হলে অবশ্যই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা করুন। পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি করতে পারেন। যদিও এই থেরাপির কারণে হৃদরোগের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অবশ্যই জাঙ্কফুড এড়িয়ে চলা উচিত এবং বাড়ির খাবারে নিজেকে অভ্যস্ত করে দেওয়া উচিত। নিজের খাদ্য তালিকায় জিংক, ওমেগা থ্রি, ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার দাবার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। খুব মিষ্টি অথবা নোনতা খাবার খাবেন না। ক্যাফেইন জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সুস্থ জীবনযাপনের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম যদি আপনার হয় তাহলে অবশ্যই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন আপনি।