কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধর্নায় বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

19
কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধর্নায় বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

এবার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রীতিমতো ধর্নায় বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সকাল ৯:৪০ মিনিট নাগাদ সেনাবাহিনীর কাছে অনুমতি চেয়ে একটি ইমেইল করা হয়েছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী তরফ থেকে কোনো রকম উত্তর পাওয়া যায়নি। এই প্রসঙ্গে সেনা মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে এত দ্রুত অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে ভবিষ্যতে এই বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সোমবার তৃণমূল নেত্রীর প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কমিশন। তার বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্যর অভিযোগ উঠেছিল। তার পরেই তাকে নোটিশ দিয়ে জবাব চেয়ে পাঠায় কমিশন। সেই জবাব দেওয়া হয় কমিশনকে। কিন্তু কমিশন সেই জবাবে একেবারেই সন্তুষ্ট হয়নি। এরপরই সোমবার তৃণমূল নেত্রীর প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

কমিশন নিষেধাজ্ঞা জারি করে জানিয়ে দেয় যে, সোমবার রাত আটটা থেকে মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী কোন রকম প্রচার কর্মসূচি চালাতে পারবেন না। এর পরেই এই সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা ব্যানার্জি জানিয়ে দেন যে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি দুপুর বারোটা নাগাদ গান্ধী মূর্তির নিচে ধর্না তে বসবেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বারাসাত, বিধান নগর, হরিণঘাটা এবং কৃষ্ণগঞ্জ এলাকায় তৃণমূল নেত্রীর জনসভা ছিল। কিন্তু কমিশনের নির্দেশ মতো সমস্ত কর্মসূচি বাতিল হয়ে যায়। যদিও তৃণমূল সূত্র থেকে জানানো হয়েছিল যে, হরিণঘাটা এবং কৃষ্ণগঞ্জ এর সভা বাতিল হয়ে গেলেও বারাসাত এবং বিধান নগর এর জনসভা করবেন মমতা ব্যানার্জি। প্রচারে নিষেধাজ্ঞা সময় পেরিয়ে যাবার পর এই সভায় তিনি করবেন বলে জানা গিয়েছিল।

গত ৩ এপ্রিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলির তারকেশ্বরের সভা থেকে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের আব্বাস সিদ্দিকীর নাম না করে মন্তব্য করে বলে যে, সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হতে দেবেন না। বিজেপি এলে সমূহ বিপদ হবে আপনাদের। কমিশনের যুক্তি অনুযায়ী ধর্ম অথবা জাতির ভিত্তিতে ভোট চাওয়া আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। ঠিক এই কারনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠায় কমিশন।